আজ-  ,
basic-bank
সংবাদ শিরোনাম :

৯ দিনের পুত্র সন্তান রেখে মায়ের করুণ বিদায়

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মেইনগেট মোড়ে আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্র নামীয় (প্রাঃ) হাসাপাতালে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার মোমিনা খাতুন (১৮), স্বামী মো. হানিফ (২৩) গাছুয়াপাড়া, ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ এক মহিলা রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে ভর্তি করা হয়। দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৩ সেপ্টেম্বর সোমবার সরকারি হাসপাতাল থেকে ওই রোগীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

পরে স্থানীয় এক দালালের পরামর্শে রোগীকে ময়মনসিংহ না নিয়ে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে হাসপাতাল মোড়ের লাইসেন্স বিহীন হাতুড়ে ডাক্তার মো: নজরুল ইসলাম ওই রোগীর লোকজনদের ডেকে এনে রোগীর চিকিৎসা শুরু করেন। মো: নজরুল ইসলাম রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আশ্বাস দিয়ে দুপুর তিনটার দিকে রোগীর শরীরে সেফট্রোন ইনজেকশন পুশ করেন।

ইনজেকশন দেওয়ার পর রোগীর কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে স্বজনরা আহাজারী শুরু করেন। কান্না শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ডাক্তার নজরুলকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন জনৈক ২ ব্যাক্তি, রোগীর লাশ চেম্বারে ফেলে রেখেই ডাক্তার পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, ৯ দিন আগে এই মহিলা একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন, তার শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় শনিবার দূর্গাপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রোগীর লোকজনদের অভিযোগ ভুল চিকিৎসা দিয়ে মহিলাকে মেরে ফেলা হয়েছে, বাচ্চাটি জীবিত রয়েছে। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ বেলাল বলেন, রোগীর কোমড়ে প্রচণ্ড ব্যথা ছিল সোমবার পর্যন্ত উন্নতি না হওয়ায় সকালেই তাকে মচিমহাতে রেফার করে দিয়েছি।

খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানা পুলিশ লাশ থানায় নিয়ে যায় এবং দোকানটি সিলগালা করে রাখেন।

ওসি মিজানুর রহমান জানান, আমরা ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছি। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবার এখনো কোন অভিযোগ পত্র দেননি। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। লাশ ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।