আজ-  ,
basic-bank
সংবাদ শিরোনাম :

তাহলে শিশুটিকে মারলো কে?

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পুষ্পকাটি গ্রামের ফরহাদ হোসেন মেয়ে ফারিয়াকে (৪) নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ভোমরা বন্দরে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে কে বা কারা তার মাথায় সজোরে আঘাত করে। ফরহাদ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সেই সুযোগে শিশু ফারিয়াকে পার্শ্ববর্তী পুকুরের পানিতে ছুড়ে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয়রা ফরহাদকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু শুক্রবার সকালে ফরহাদ হোসেন জানতে পারেন মেয়ে ফারিয়ার মরদেহ ভাসছে পুকুরে। এমনটাই দাবি ফরহাদ ও তার স্বজনদের।

তবে এলাকাবাসী বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য, ফরহাদকে কেউ লাঠি দিয়ে আঘাত করেনি। এমনকি তার মেয়েকে পুকুরে ছুড়ে ফেলে হত্যার ঘটনায় অন্য কেউ জড়িতও নয়। রাজনৈতিক কারণে ফরহাদের প্রতিবেশী মোকছেদ আলি এখন জেলে রয়েছে। তাকে জেলে পাঠানোর জন্য কয়েকজন লোককে সে দায়ী করে আসছিল। প্রতিশোধ নিতেই ফরহাদ মোকছেদ পরিবারের কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা হাতিয়ে নিয়ে তার মেয়েকে হত্যার দায় এলাকার কয়েক যুবকের ওপর চাপাতে এই নাটক সাজিয়েছে।

আলিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন জানান, ফরহাদ নিজেই একটি হত্যা মামলার আসামি, ধুর্ত প্রকৃতির মানুষ সে। ফরহাদ তার মেয়েকে হত্যার আগে মোকছেদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেয়।

মোকছেদ ২০১৩ সালে প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতীকী কবর তৈরি করে দেবহাটায় ব্যাপক সহিংসতা চালায়। এখন ফরহাদ তার নিজের মেয়েকে হত্যা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নাম বলছে।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মান্নান আলি জানান, শিশু ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি রহস্যজনক। পানিতে ডুবে মারা যাওয়া কিংবা আঘাত করে হত্যার কোনো চিহ্নই শিশুটির দেহে নেই। এমনকি শিশুটির বাবা ফরহাদের দেহেও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তদন্ত না করে হত্যার বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে শিশটির বাবা ফরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।