আজ-  ,
basic-bank
সংবাদ শিরোনাম :

মেরামতের অভাবে ১০ ডেমুর ৬টিই বিকল

দেশে কোন ওয়ার্কশপ কিংবা বিশেষজ্ঞ না থাকায় মেরামতের অভাবে একের পর এক বিকল হয়ে পড়ছে ডেমু ট্রেন। ঢাকায় চলাচলকারী ১০ ডেমুর ৬টিই এখন অচল। যে চারটি সচল আছে সেগুলোকেও প্রতিদিনই নিতে হয় মেরামত খানায়। মাত্র ৭ বছর আগে ২০১১ সালে চীন থেকে ৬৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা হয়েছিল ২০টি ডেমু ট্রেন। মেরামতের অভাবে লাভের পরিবর্তে ডেমু এখন রেলওয়ের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেমুগুলো সচল রাখতে বিদেশি কনসালটেন্ট নিয়োগের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

এভাবেই স্টার্ট বন্ধ হয়ে যাত্রার শুরুতেই হোঁচট খায় ঢাকা থেকে জয়দেবপুরগামী এই ডেমু ট্রেনটি। ট্রেনের চালক বলছেন, ইলেকট্রিক সমস্যার কারণে ঢাকায় চলাচলকারী ডেমু নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই পড়তে হয় এমন সমস্যায়। মাঝে মধ্যেই ইঞ্জিন বিকল হয়ে বন্ধ হয়ে যায় ডেমু, চলার পথে এমন অভিজ্ঞাও নাকি কম নয় এই চালকের।

ডেমু ট্রেনের চালক জানান, যে যান্ত্রিক ত্রুটি হয়, সেই দিন একবারেই অকেজেও হয়ে যায়। আর চলে না।

হঠাৎ করে বিকল হয়ে পড়া এই ডেমুটিকে আরেকটি দিয়ে টেনে আনা হচ্ছে কমলাপুর লোকো শেডে। ডেমুর জন্য আলাদা কোন ওয়ার্কশপ না থাকায় এখানেই চলছে এর মেরামত। ওয়ার্কশপে প্রতিদিনই নিয়ে আসা হয় ডেমু। বিকল হয়ে পড়ে আছে আরও ছয়টি। ২০১১ সালে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের উন্নত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে চীন থেকে আমদানি করার সাত বছরের মধ্যেই এমন বেহাল দশায় পড়েছে ডেমু ট্রেন।

তবে এখানকার মেকানিকরা বলছেন ডেমুর প্রযুক্তির সাথে পরিচিত না হওয়ায় মেরামত করতে পারেন না তারা।

ট্রেনের প্রকৌশলীরা জানান, ডেমু ট্রেনটি বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকৌশলীদের কাছে নতুন প্রযুক্তি। এটা আমদানি করা হয়েছে। সে হিসেবে আমরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়।

দেশিয় প্রযুক্তিতে মেরামতের চেষ্টা চললেও দায়িত্বশীল এই কর্মকর্তা বলছেন, দেশে কোন বিশেষজ্ঞ নেই ডেমুর এমনকি যন্ত্রাংশও পাওয়া যায় না। ফলে ডেমু নিয়ে বিড়ম্বনার শেষ নেই। প্রথম তিন বছর চীন কারিগরি সহায়তা দিলেও সে মেয়াদ শেষ হওয়ায় পুরোপুরি বিকল হতে বসেছে ডেমু।

ডেমু মেরামত ওয়াকর্শ ইনচার্জ বলেন, আর বিষয়গুলো আমরা ঠিকভাবে করতে পারি না। এগুলো মেরামত করতে যে মালামাল দরকার সে যোগান আমাদের নেই।

এভাবে বিকল হয়ে পড়ে থাকলে ট্রেনগুলো স্থায়ীভাবে বিকল হয়ে পড়তে পারে এমন আশংকা করে, প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদেশী কনসালটেন্ট নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এটা একটাই কারণ, আমাদের যে রকম প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন ছিল, সেটা নেওয়া হয়নি। এখন ডেমু যে ট্রেনগুলো রয়েছে, সেগুলোকে চীন থেকে অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে এগুলো ঠিক করা প্রয়োজন। এবং চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।

তবে এসব বিষয় নিয়ে কোন কথা বলতে চাননি রেলওয়ে মহাপরিচালক কিংবা রেলমন্ত্রী।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।