আজ-  ,
basic-bank
সংবাদ শিরোনাম :

এমআর কখন করা যাবে?

কিছু ক্লিনিক আছে যেগুলো প্রধানত ‘এমআর’ (মিন্সট্রুয়াল রেগুলেশন) সেবা দেওয়ার জন্যই কাজ করে৷ সরকারি হাসপাতালগুলোতেও এমআর ওয়ার্ড আছে৷ বাংলাদেশে গর্ভপাত বেআইনি৷ কিন্তু ‘এমআর’তো গর্ভপাতেরই বিকল্প নাম!

মিরপুরের মাজার রোডে বেশ কয়েকটি ক্লিনিক আছে, যেখানে এমআর-এর জন্য ভিড় লেগেই থাকে৷ একেকটি ক্লিনিকে গড়ে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচটি গর্ভপাতের সার্জারি হয়৷ এগুলো ‘এমআর` নামেই হয়৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ক্লিনিকের একজন পরিচালক জানান, ‘সাধারণত অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ এড়াতেই এখানে অনেকে এমআর করাতে আসেন৷ তাদের বড় একটি অংশ বয়সে তরুণী৷`

চিকিৎসকরা জানান, মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে সেই মাসিক নিয়মিত করার এক ধরনের চিকিৎসার নামই এমআর৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গর্ভধারণের কারণেই মাসিক বন্ধ হয়৷ তবে বাংলাদেশের এমআরের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। এটি ব্যবহার হচ্ছে অনাকাঙিক্ষত সন্তানকে হত্যা করতে।

গার্টমেকার ইন্সটিটিউট একটি হিসাব দিয়ে বলেছে, ২০১০ সালে বাংলাদেশে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ১০০ এমআর করা হয়৷ অর্থাৎ প্রতি হাজারে এমআর করা হয় ১৮.৩ টি৷ একই বছর সরাসরি গর্ভপাতের ঘটনা ছিল ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬০০ টি৷ সে বছর প্রতি ১০০০ গর্ভবতীর মধ্যে ১৮ দশমিক ২ জন গর্ভপাত করিয়েছেন৷ তাদের বয়স ১৫ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে৷

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এমআর কখন করা যাবে আর কখন যাবে না?

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে এমআর-কে বৈধতা দেয় সরকার৷ আগে এমআর করার সর্বোচ্চ সময়সীমা ছিল বাচ্চার বয়স আট সপ্তাহ, কিন্তু এখন ১২ সপ্তাহ ৷ প্রতিটি সরকারি হাসপাতালেই এমআর-এর আলাদা বিভাগ আছে৷

কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিলকিস বেগম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ৪২ দিন পর্যন্ত এমআর-এর সুযোগ দেই৷ কারণ, ওই সময় পর্যন্ত ঠিক নিশ্চিত হওয়া যায় না গর্ভে সন্তান আছে কি নেই৷ কিন্তু এর বেশি সময় হলে আমরা কাউন্সেলিং করে মা-কে এমআর থেকে বিরত রাখি৷`

ডা. বিলকিস বেগম চৌধুরী আরো জানান, ‘অনেকেই দ্বিতীয় বা তৃতীয় সন্তান নিতে চান না৷ অনাকাঙ্খিতভাবে গর্ভধারণ হলে তারা তাই এমআর করান৷`

তাঁর মতে, ‘জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এমআর কমে আসবে৷ আমরা তাই এখন এমআর নিরুৎসাহিত করি৷ সঠিকভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেই, উৎসাহিত করি৷`

তিনি আরো জানান, ‘তবে অনেকেই সরাসরি গর্ভপাত করাতেও আসেন৷ নানাভাবে তারা অনাকাঙ্খিতভাবে গর্ভবর্তী হয়ে পড়েন৷ কিন্তু আমরা ফিরিয়ে দেই, কারণ, আইনে গর্ভপাতের সুযোগ নেই এবং আইনের চোখে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷`

প্রাইভেট হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোও বৈধভাবেই এমআর করছে৷ মূলত এমআর-এর মাধ্যমেই বাংলাদেশে গর্ভপাতকে এক ধরনের বৈধতা দেওয়া হয়েছে৷ সামাজিক এবং ধর্মীয় কারণে হয়ত সরাসরি গর্ভপাতকে বৈধতা দেওয়া যায় না, কিন্তু অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ এড়াতে এর প্রয়োজন আছে বলে অনেকে মনে করেন৷

বাংলাদেশের আইনে শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শে মায়ের জীবন বাঁচাতে গর্ভপাতের সুযোগ আছে৷ তবে চিকিৎসকরা বলেছেন, এমআর-এর নামে ছোট ছোট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ‘গর্ভপাতের` যে ব্যবসা গড়ে উঠেছে, তা ঝুঁকিপূর্ণ।

কারণ, সেখানে প্রশিক্ষিত ডাক্তার নাই৷ আয়া বা নার্স দিয়েই গর্ভপাতের কাজ করা হচ্ছে৷ এর ফলে কখনো কখনো গর্ভবর্তী মারা যান৷ আবার কখনো তার মা হওয়ার সক্ষমতা শেষ হয়ে যায় অথবা জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হন৷ সরকারের উচিত বিষয়টি মনিটরিং করা৷

বাংলাদেশে বেশ কিছু এনজিও তাদের হাসপাতালের মাধ্যমে এই এমআর সেবা দিচ্ছে৷ আর এখন সার্জারি ছাড়া ওষুধের মাধ্যমেও গর্ভপাত করানো হয়৷

চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রেই জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না৷ এই পদ্ধতি প্রায় শতভাগ নারীর ওপরই প্রয়োগ করা হয়৷ ফলে অনাকাঙ্খিত গর্ভ ধারণের ঘটনা ঘটে৷ এছাড়া সচেতনতার অভাব, জবরদস্তি ও প্রতারণা-প্রলোভনের কারণেও অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণের ঘটনা ঘটে৷

অনেকেই দ্বিতীয় বা তৃতীয় সন্তান নিতে চান না৷ অনাকাঙ্খিতভাবে গর্ভধারণ হলে তারা তাই এমআর করান৷

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এমআর কমে আসবে৷ আমরা তাই এখন এমআর নিরুৎসাহিত করি৷ সঠিকভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেই, উৎসাহিত করি৷

প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে পাঁচ কোটি ষাট লাখ নারীর গর্ভপাত হচ্ছে৷ বিশ্বে প্রতি চার জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে একজনের গর্ভপাত হচ্ছে৷

সূত্র: ডয়েচে ভেলে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।