আজ-  ,
basic-bank
সংবাদ শিরোনাম :

কলড্রপের বাধা সরাচ্ছে বিটিআরসি

কলড্রপের জন্য বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা বলে আসছে অপারেটরগুলো। এবার সেসব প্রতিবন্ধকতার কিছু সরাতে নেমেছে বিটিআরসি।

কলড্রপের একটি কারণ হিসেবে কডলেস টেলিফোন, ওয়াকিটকি, নেটওয়ার্ক আটকানো জ্যামারসহ বিভিন্ন বেতার যন্ত্রপাতিকে দায়ি করছে অপারেটরগুলো। মঙ্গলবার বিটিআরসি জনস্বার্থে বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশে অনুমতিছাড়া এসবের ব্যবহার বন্ধ করতে বলেছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।

‘এসবের কারণে মোবাইল অপারেটদের নেটওয়ার্ক তরঙ্গে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে, কলড্রপ হচ্ছে, ইন্টারনেটের গতি কমছে এবং সংযোগ পেতে গ্রাহকের সমস্যা হচ্ছে। তাই কডলেস টেলিফোন সেট, ওয়াকিটকি সেট, নেটওয়ার্ক আটকানো জ্যামারসহ বিভিন্ন বেতার যন্ত্রপাতি আমদানি, কেনাবেচা ও ব্যবহারে বিরত থাকতে বলা হলো’-বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছে বিটিআরসি।

অপারেটরগুলো বলছে, গ্রাহক একটি কল করার পর রিসিভারের কাছে যাওয়া পর্যন্ত তারা ছাড়াও এনটিটিএন, আইআইজি, আইসিএক্স, আইজিডব্লিউসহ অনেকগুলো পক্ষ জড়িত। জ্যামারসহ অনাকাংখিত বেতার তরঙ্গ অনেক কলড্রপের কারণ। অথচ তাদের সেবার মান নিয়ন্ত্রণ এবং এসব বাধার বিষয়ে কিছু করার কোনো ক্ষমতা অপারেটরদের নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই কলড্রপ সমস্যার পুরো সমাধান অপারেটরদের হাতে নেই।

কলড্রপ নিয়ে গ্রাহক অসন্তোষ চরমে চলে আসায় অক্টোবরে অপারেটরদের কাছে এর ‘প্রকৃত অবস্থা ও এ সংক্রান্ত অভিযোগ’বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেয় বিটিআরসি। এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জাতীয় সংসদে কলড্রপের বিষয়টি তোলেন। তারও আগে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার কলড্রপ নিয়ে অপারেটরদের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করেন।

এর মধ্যে ওই মাসেই ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর হতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সবগুলো অপারেটররের কলড্রপের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই সময়ে ১০৩ কোটি ৪৩ লাখ বার কলড্রপ হয়েছে গ্রামীণফোনের। গ্রাহক সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রবির কলড্রপ হয় ৭৬ কোটি ১৮ লাখ বার। বাংলালিংকের কলড্রপ হয়েছে ৩৬ কোটি ৫৪ লাখ আর টেলিটকের আনুমানিক ৬ কোটি।

গ্রামীণফোনের রয়েছে সাত কোটি সাত লাখ সংযোগ আর রবির চার কোটি ৬১ লাখ সংযোগ। যেখানে বাংলালিংকের সংযোগ তিন কোটি ৩৪ লাখ এবং সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটকের রয়েছে ৩৮ লাখ ৭৩ হাজার সংযোগ।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে নভেম্বরে কোয়ালিটি অব সার্ভিস বিশেষ করে কলড্রপ নিয়ে এক কর্মশালায় মোবাইল অপারেটরগুলোর প্রতিনিধিরা বলেন, দায় তাদের একার নয়। এর অনেকটা সেবা প্রক্রিয়া থাকা বিভিন্ন লাইসেন্সির ও বিভিন্ন মাধ্যমের। যেখানে তাদের কিছুই করার নেই।

ওই কর্মশালায় রবির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহেদ আলম বলেন, দেশের মোবাইল হ্যান্ডসেটের ৬০ শতাংশের বেশি নিন্মমানের যা দিয়ে ভালো সেবাও নেয়া সম্ভব নয়। অথচ এই দায়ও শেষ পর্যন্ত অপারেটদের ওপর বর্তায়।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের আয়োজনে ওই কর্মশালায় অপারেটররা স্বীকার করেন যে, কলড্রপ নিয়ে গ্রাহকের অভিযোগ বিস্তর এবং এর বেশিরভাগই মূলত মোবাইল অপারেটরদেরকে ঘিরে। যদিও অপারেটরগুলো বলছে এই পরিসংখ্যান এক সঠিক চিত্র তুলে ধরে না। কল সংখ্যার তুলনায় কলড্রপ হিসাব করলে কলড্রপের হার বিটিআরসির সীমার মধ্যেই রয়েছে। দেশে ভয়েস কলেরড্রপের হার মাত্র শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।