আজ-  ,
basic-bank
সংবাদ শিরোনাম :

সুপার ওভার হিরো ফ্রাইলিঙ্ক

শেষ ৬ বলে ১৯ রানের দূরুহ টার্গেট পাড়ি দিতে পারেনি ঠিকই, তবে আরিফুলের ২০তম ওভারের ৪র্থ এবং ৫ম বলে লং অন এবং ডিপ স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে ফ্রাইলিঙ্কের ২ ছক্কায় স্কোরে সমতা এনেছেন চিটাগাং ভাইকিংসের কিউই ক্রিকেটার ফ্রাইলিঙ্ক।

শেষ ছক্কার ডেলিভারিটি বিমার বলে গন্য করতে আম্পায়ারের কাছে আবেদন জানিয়ে ফ্রাইলিঙ্ক সাড়া পাননি। ফলে শেষ বলটিতে সিঙ্গলের পরীক্ষায় অবতীর্ন হতে হয়েছে তাকে। ওই ডেলিভারি নিয়ে আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেছেন, টিভি আম্পায়ারের কাছে সিদ্ধান্তটির ভার দেয়ার অনুরোধ করেছেন, দূর থেকে দেখা গেছে তা। সুপার ওভারের আগেই ফ্রি হিটে জয় নিয়ে ফিরতে পারতো ভাইকিংস। দলকে জিতিয়েও মাথায় ঘুরছে তা-‘ আমি এখনো মনে করি, ওটা নো বল ছিল। কিন্তু আমরা তা পাইনি। টিভি রিপ্লেতে যারা দেখেছে, তারা ওটাই বলবে। সে কারনে আমি আম্পায়ারের কাছে অন্তত: বলটি চেক করার অনুরোধ করেছিলাম। তারা বলেছে,এটা আইনে নেই। তাই আমি বলতে পারছি না, ওটা অবিচার করা হয়েছে।’

খুলনা টাইটান্সের ১৫১/৬ স্কোরের জবাবে চিটাগাং ভাইকিংসের স্কোর ১৫১/৮। বিপিএলের প্রথম টাই ম্যাচে সুপার ওভারে সুপার হিরো ফ্রাইলিঙ্ক। যে ফ্রাইলিঙ্কে স্কোর টাই করেছে চিটাগাং ভাইকিংস, সেই ফ্রাইলিঙ্কই সুপার ওভার হিরো ! সুপার ওভারে চিটাগাং ভাইকিংসের স্কোর ১১/১। পাকিস্তানী পেস বোলার জুনায়েদ খানের ওই ওভারে ২টি চার এর একটি ডেলপোর্ট,অন্যটি ফ্রাইলিঙ্ক। খুলনা টাইটান্সকে হারিয়ে দিতে সেই ফ্রাইলিঙ্কের বোলিংয়ে রেখেছে আস্থা মুশফিকুর রহিমের। প্রথম তিন বলে ৭ রান নিয়ে স্বপ্ন দেখানো খুলনা টাইটান্স শেষ ৩ বলে প্রয়োজনীয় ৫ রান নিতে ব্যর্থ হয়। চতুর্থ বলে ডেভিড মালান ফ্লিক শটে সিঙ্গল নিতে যেয়ে রান আউট হলে শেষ ২ বলে ৫ রানের টার্গেটের সামনে দাঁড়ায় টাইটান্স। ৫ম বলে ২ রানে সন্তুস্ট থাকলে শেষ বলে ৩ রানের চ্যালেঞ্জ দাঁড়ায় টাইটান্সের। তবে ফ্রাইলিঙ্কের শেষ বলে ১ রানের বেশি নিতে পারেননি স্ট্রিলিং। সুপার ওভারে ১ রানে জিতে চিটাগাং ভাইকিংস কাঁদালো মাহামুদুল্লাহ’র খুলনা টাইটান্সকে।

নিজের উপর ভরসা ছিল বলেই এমনটা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফ্রাইলিঙ্ক-‘ কাজটা কঠিন ছিল। এটাই আমার প্রথম সুপার ওভার ছিল। সুপার ওভারে ১১ রান নেয়াটা কম নয়। তাই আমি নিজের উপর আস্থা রেখেছি। মালানের কাছে বাউন্ডারি খেয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে পরবর্তী ডেলিভারির পরিকল্পনা করেছি। পরিস্থিতির মুখে ৭ নম্বরে ব্যাটিং করে, দেরিতে বোলিং করতে হয়েছে আমাকে অনেকবার। শেষ ওভারে ১৫ রান নিয়েছি, সুপার ওভারে ১০ রান দিয়েছি। আমার ক্যারিয়ারে এমনটা অনেকবার হয়েছে। মাথা ঠান্ডা রেখে প্রচুর অনুশীলন এবং নিজের উপর ভরসা রাখার ফলে তা সম্ভব হয়েছে।’

দারুন এক থ্রিলারে জিতে অধিনায়ক মুশফিক আবেগ চাপা রাখতে পারেননি। অধিনায়ক হয়ে টিমমেট ফ্রাইলিঙ্কের কোলে লাফ দিয়ে উঠেছেন। স্মরনীয় এমন মূহুর্তকে মনে রাখবেন সারা জীবন সুপার ওভার হিরো ফ্রাইলিঙ্ক-‘ এটা দারুন একটা জয়। দলকে দেখে সেটাই মনে হবে সবার। আমরা এমন মূহুর্তের জন্যই খেলি। দশর্কের অর্ধেকাংশ খুশি হয়েছে,অন্যরা অখুশি হয়েছে। তবে এমন একটি মূহুর্ত সব সময়ই স্মরনীয় হয়ে থাকবে। ম্যান অব দ্য ম্যাচ,অথবা টাকার জন্য নয়, এই মূহুর্তগুলো আমি সারা জীবন উপভোগ করি।’

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।