আজ-  ,
basic-bank
সংবাদ শিরোনাম :

নওগাঁয় চেম্বারে একা পেয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ, লজ্জায়…

নওগাঁয় চিকিৎসকের ধর্ষণের শিকার হয়ে এক গৃহবধূ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এটা খুবই জঘন্য একটি কাজ যেখানে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে মানুষ জীবন ফিরে পান। কিন্তু এই চিকিৎসকের থেকে চাকরি নিয়ে তার লালসার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে মৃত্যুকে বরণ করে নিলেন গৃহবধূ খাদিজা আকতার (৩০)।

গত ২২ জানুয়ারি ওই গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেন। খাদিজা মারা যাওয়ার পর তার ফোন রেকর্ড থেকে যৌন নিপীড়নের বিষয়টি স্পষ্ট হলে এ ঘটনায় মামলা করেন নিহত গৃহবধূর বাবা।

এ ঘটনায় শুক্রবার (২৫ জানুয়ারি) চিকিৎসক হেলাল আহম্মেদ লিটনকে তার চেম্বার থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও নিহতের আত্মীয়-স্বজন জানান, ৫ বছর আগে শহরের পাটালীর মোড়ে শাহিন হোসেনের বাসার দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে পাইলস কিউর সেন্টার স্থাপন করে নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া শিবপুর গ্রামের ডা. হেলাল আহম্মেদ। সপ্তাহ তিনেক আগে আয়া কাম চেম্বার সহকারী হিসেবে সেখানে চাকরি নেন এক সন্তানের জননী খাদিজা আকতার। গত ১৮ জানুয়ারি বিকেলে হেলাল তার চেম্বারে একা পেয়ে খাদিজাকে ধর্ষণ করে।

খাদিজার জা (স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী) আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার হয়ে প্রাণচঞ্চল খাদিজা একেবারে নীরব হয়ে যান। হঠাৎ করে নীরব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বার বার জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, ডাক্তার তাকে ধর্ষণ করেছেন। এ লজ্জায় স্বামী-সন্তানসহ কারও দিকে তাকাতে পারছেন না। এক পর্যায়ে খাদিজা গত ২০ জানুয়ারি বিকেলের দিকে বিষপান করেন। প্রথমে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি মারা যান।’

আয়েশা সিদ্দিকা আরও বলেন, ‘বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় আমিও কাউকে কিছু বলিনি। শুধু খাদিজাকে সান্ত্বনা দিয়েছি; কিন্তু সে এমন করে নিজের জীবনটাই দিয়ে দেবে কে জানত।’

গৃহবধূ খাদিজার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে খাদিজাকে দাফনের পর তার মোবাইল ফোনে ওই ডাক্তার একাধিকবার ফোন করেন। কিন্তু আমি ফোন রিসিভ করিনি। কৌতূহলবশত ফোন চেক করতে গিয়ে দেখি ধর্ষণের বর্ণনাসহ রেকর্ড। খাদিজা বিষয়টি ডাক্তারি চেম্বারের বাড়িওয়ালা শাহিন হোসেনকে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে মোবাইলে রেকর্ড করে রেখেছেন।

পরে নওগাঁ সদর থানায় অবহিত করলে পুলিশের পক্ষ থেকে খাদিজার বাবাকে বাদী করে শুক্রবার একটি মামলা করানো হয়। ওই দিনই ডা. হেলালকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি আব্দুল হাই বলেন, ডা. হেলালকে তার পাটালীর মোড়ের চেম্বার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে খাদিজা আকতারকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে ডা. হেলাল।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।