কার নির্দেশে বীনা ওএসডি, জানতে চান শামীম ওসমান

কার নির্দেশে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা অন্তঃসত্ত্বা হোসনে আরা বেগম বীনাকে ‘ওএসডি’ করা হয়েছে তা জানতে চান সাংসদ শামীম ওসমান।

গতকাল সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে অনির্ধারণী আলোচনায় তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এ প্রশ্ন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে খারাপ কিছু হলে আমি নিজেও নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না।

অনির্ধারণী আলোচনার শুরুতেই সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এ বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেন। এরপর এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এমপি শামীম ওসমান।

শামীম ওসমান বলেন, এই ঘটনায় আজ আমি জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে বহুবার ফোন করেছিলাম। হয়ত আমার নম্বরটা তার কাছে নেই বলে তিনি ধরেননি। এই ঘটনা আমার এলাকায় হওয়ায় আমিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছি। কেন, কীভাবে তাকে ওএসডি করা হলো তা জানতে চাই।

ওই নারীকে নিজের বোনের সঙ্গে তুলনা করে শামীম ওসমান বলেন, আমি এই সময় ওমরায় ছিলাম। এই ঘটনার জন্য অত্যন্ত দুঃখিত ও লজ্জিত। আমার নির্বাচনী এলাকা হিসেবে সার্টিফায়েড করতে চাই-ওই কর্মকর্তা অত্যন্ত কর্মঠ ও যোগ্য ছিলেন। নির্বাচনের সময় তাকে আমি অন্য জায়গায় বদলি হয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তিনি রাজি ছিলেন না। বরং কাজ করতে পারলে তিনি ভালো থাকবেন বলে জানান।

তিনি বলেন, আমি মানুষ হিসেবে বলছি, আশা করি এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সংসদে বক্তব্য দেবেন। তাকে বদলি নয়, কেন ওএসডি করা হলো তা তদন্ত করে বের করুন। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি তার বাচ্চাটা যেন হায়াত দারাজ করেন। বাচ্চাটা যদি কিছু হয় আমি নিজেকেও ক্ষমা করব না।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও হোসনে আরা বিনাকে ‘ওএসডি’ করার ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে প্রশাসন ও প্রশাসনের বাইরে। বিশেষ করে এই ঘটনার পর বিদায়ী এই ইউএনও ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াতে এই তোলপাড় শুরু হয়।

বিনা তার ফেসবুক পোস্টের একটি অংশে লিখেছিলেন, ‘একজন বিশেষ কর্মকর্তা বিভিন্ন মহলে আমাকে অযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করে আমাকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে বদলীর পায়তারা করেই চলেছিল।’ যদিও তিনি এই কর্মকর্তা নাম সেখানে উল্লেখ করেনি। কেবল লিখেছেন ‘তার নাম বলতেও আমার রুচি হচ্ছে না।’

আলোচিত ওই পোস্টের এই অংশটুকু অনেককেই কৌতুহলী করে তোলেন। সবার একই প্রশ্ন, কে এই বিশেষ কর্মকর্তা? কেনই বা বিনাকে তিনি এখান থেকে সরাতে চেয়েছিলেন! বিনাকে সরিয়ে দিয়ে ওই কর্মকর্তা কী এমন স্বার্থ উদ্ধার করতে চেয়েছেন! এই প্রশ্নের উত্তরটুকু এখনও মিলেনি। হোসনে আরা বিনাও এ নিয়ে মুখ খুলেননি। অনেকের মতে, এই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ হলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে পারে। আর সেটি বেরিয়ে আসা উচিৎ নারীর পথচলা সুগম করার জন্য। নয়তো

এদিকে বিনার স্ট্যাটাসটি এতটাই আবেগঘন ছিলো যে, যেই কাউকেই তার বলে যাওয়া বক্তব্যগুলো অত্যন্ত নিবিড় ভাবে স্পর্শ করেছে। যার কারণে স্থানীয় গন্ডি পেরিয়ে আলোচিত এই স্ট্যাটাসটি এখন জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার খোরাক হয়ে উঠেছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: সৃষ্টি বার্তা থেকে কপি করা যাবে না।
0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap