ছাত্রের সঙ্গে বাবার বাড়িতেই অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতো সেই এশা!

দীর্ঘ নয় বছর প্রেম। প্রচণ্ড ভালোবাসতেন প্রেমিকা মিতুকে। বিয়ের কয়েকদিন আগে জানতে পারেন বিভিন্ন ছেলের সাথে হোটেলে রাত কাটায় তার প্রেমিকা মিতু। এরপরেও সব ভুলে বিয়ে করে শুরু করে সংসার। এর কিছুদিন পরে আবার জানতে পারে নতুন কিছু পরকীয়া প্রমিকদের সাথে রাত কাটাচ্ছে তার স্ত্রী। এতকিছু সহ্য না করতে পেরে অবশেষে নিজের জীবন দিয়ে দিলেন।

বলছিলাম চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকার মোস্তফা মোরশেদ প্রকাশ আকাশের কথা। পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। গত বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর ৫ টার দিক চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ডি ব্লকের ২ নম্বর রোডের ২০ নম্বরের নিজ বাসায় শরীরে ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করেন তিনি।

এদিকে স্ত্রীর পরকিয়ার ঘটনায় চট্টগ্রামে চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যার রেশ না কাটতেই এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকিয়ার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন এক স্বামী।

রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সদর আদালতে এ মামলা দায়ের করেন স্বামী সাদ্দাম হোসেন দীপু। সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে দীপু বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের বিচারক ফারজানা আহমেদ মামলাটি আমলে নিয়ে এজাহারের দুই আসামি দীপুর স্ত্রী শ্রাবণী বুশরা এশা ও তার পরকীয়া প্রেমিক মুনতাছির ইভানের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

এশা ঢাকার উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্রী ও বর্তমানে ধানমন্ডি এলাকার আনোয়ার খান মডার্ণ আধুনিক মেডিকেল কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। মুনতাছির উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের ছাত্র।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদী সাদ্দাম হোসেন দীপুর সাথে তার স্ত্রী আসামি শ্রাবণীর সাথে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে এই বিষয়টি কারো পরিবারই জানতেন না। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট রেজিস্ট্রি কাবিন ও কাজীর মাধ্যমে গোপনে বিয়ে হয় উত্তর মৌড়াইল মহল্লার বাসিন্দা জেড এম ইমরান আলীর মেয়ে শ্রাবণী বুশরা এশার সাথে। বিয়ে হলেও উভয় পরিবারের কেউই জানতেন না এই বিষয়টি।

উভয় পরিবার বিষয়টি পরে জানতে পারলেও তারা মেনে নেয়নি। এর মধ্যে দীপু শ্রাবণীকে নিয়ে ঢাকায় একটি ভাড়া বাসায় উঠেন। দীপু তার অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে গেলে তার স্ত্রী এশার সাথে যোগাযোগ করতেন পরকীয়া প্রেমিক আসামি মুনতাছির। পাশাপাশি তার বাড়িতেও নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন সে।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর দুপুরে দীপু তার অফিসের কাজে কর্মস্থলে ছিলেন। এদিন এশা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তার বাবার বাড়িতে মুনতাছিরের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদি সাদ্দাম হোসেন দীপু জানান, আমি শ্রাবণীকে অনেক ভালবাসি। মানুষ জানাজানির ভয়ে আমি কারো কাছে কিছু বলতাম না। তবে শ্রাবণীকে আমি অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তবুও সে খারাপ পথ থেকে ফিরে আসেনি। তাই বাধ্য হয়েই আমি তার বিরুদ্ধে আদালতে ন্যায় বিচারের প্রার্থী হয়েছি।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী আরিফুল হক মাসুদ বলেন, এ ধরণের মামলা আদালত আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে থাকেন। কিন্তু পরকীয়ার ঘটনায় চট্টগ্রামে চিকিৎসক আত্মহত্যার কারণে আদালত এ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।
সূত্র: বিডি২৪লাইভ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: সৃষ্টি বার্তা থেকে কপি করা যাবে না।
0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap