আজ-  ,
basic-bank
সংবাদ শিরোনাম :

নারী তুমি অপরাজিতা: বিশ্বভ্রমণের রেকর্ড ছুঁয়েছেন নাজমুন

ঐতিহাসিক বিশ্বভ্রমণের রেকর্ড ছুঁয়েছেন নাজমুন নাহার। বাংলাদেশের এই গর্বিত নারী এখন পর্যন্ত লাল সবুজের পতাকা উড়িয়েছেন বিশ্বের ১২৫টি দেশে। বাংলাদেশের কোনো মানুষের এই প্রথম এতগুলো দেশ ভ্রমণ। ১২৫তম দেশ হিসেবে ভ্রমণ করেন নাইজেরিয়া। পৃথিবীর মানচিত্র এক সময় যার অধ্যয়নে এবং স্বপ্নে ছিল এখন তার হাতের মুঠোয়। ছোটবেলা থেকেই যে নারী স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশের পতাকা হাতে ঘুরবেন সারা বিশ্ব- আজ তার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন পূরণ হতে চলছে।

তিনি একা একা পৃথিবীর ১২৫টি দেশ ভ্রমণ করে ফেলেছেন, কখনো সাহারার মরুভূমি, কখনো বিপদসঙ্কুল আফ্রিকান জঙ্গল আবার কখনো বা সমুদ্রের তলদেশে গিয়েছেন। নাজমুন নাহার বেশিরভাগ দেশই ভ্রমণ করেছেন সড়ক পথে একা একা। এ তালিকার মধ্যে রয়েছে পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, পশ্চিম আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও যুগোস্লাভিয়ার প্রতিটি দেশ। এ ছাড়াও তিনি সড়ক পথে সফর করেছেন ইউরোপ ও এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ।

সম্প্রতি ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সড়ক পথে ঘুরেছেন পশ্চিম আফ্রিকার ১৫টি দেশ। এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে সাহারা মরুভূমি ও উত্তর আটলান্টিকের পাশ ঘেঁষে যাওয়া সব দেশগুলোর নাম। ১৮ নভেম্বর ২০১৯ সুইডেন থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপ গ্রান্ড ক্যানারিয়া হয়ে তিনি শুরু করেছিলেন মৌরিতানিয়া, সেনেগাল, গাম্বিয়া, মালি, গিনি বিসাও, গিনি কোনাক্রি, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, আইভরিকোস্ট, বুরকিনা ফাসো, গানা, টগো, বেনিন, নাইজার ও নাইজেরিয়া ভ্রমণের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রের সবচেয়ে কঠিন পথ যাত্রা।

নাজমুন নাহার এবারের যাত্রা শুরু করেছেন পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়ার রাজধানী নোয়াকচট থেকে। শেষ করছেন নাইজেরিয়ার লাগোস শহরে। এর মাধ্যমে তার শেষ হলো পশ্চিম আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি ও গোল্ড কোস্ট লাইনের প্রতিটি দেশ ভ্রমণ।

বাংলাদেশের পতাকা হাতে তিনি বিশ্ব শান্তির এক অনন্য দূত হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছেন সারা বিশ্বে। ২০০০ সালে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার প্রথম বিশ্বভ্রমণ শুরু হয়। সে সময় তিনি ভারতের ভুপালের পাঁচমারিতে যান। এটিই তার জীবনের প্রথম বিদেশ ভ্রমণ। বিশ্বের আশিটি দেশের ছেলে-মেয়ের সামনে তখন তিনি প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

২০১৮ সালের ১ জুন নাজমুন একশ দেশ ভ্রমণের মাইলফলক সৃষ্টি করেন পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়েতে। তার এই মাইলফলককে সম্মাননা দিয়েছেন জাম্বিয়া সরকারের গভর্নর হ্যারিয়েট কায়েনা। জাম্বিয়া সরকারের গভর্নরের কাছ থেকে পেয়েছেন ফ্ল্যাগ গার্ল উপাধি।

বাংলাদেশের পতাকা হাতে তিনি বিশ্ব শান্তির এক অনন্য দূত হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছেন সারা বিশ্বে। এ পর্যন্ত সারা বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে প্রায় লক্ষাধিক বাচ্চার সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকাকে পরিচয় করিয়ে দেন। এ ছাড়াও পথে পথে তিনি স্কুল, কলেজ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে বিশ্ব শান্তির বার্তা পৌঁছান।

সম্প্রতি তিনি তিনি ঘানা ইন্টারন্যাশনাল মিশন স্কুল, গাম্বিয়ার ‘সানায়াঙ আপার স্কুলসহ পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ১৭টি স্কুলে প্রায় চল্লিশ হাজারের ও বেশি বাচ্চাদের সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির কথা তুলে ধরেন।

বিশ্বজুড়ে তার দীপ্ত পদচারণার শব্দে উদ্দীপিত অনেক তরুণ। পৃথিবীজুড়ে তিনি শিশু ও তরুণদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন শান্তির বার্তা, আর তাদেরকে জাগিয়ে তুলছেন স্বপ্ন দেখার শিহরণে।

বাংলাদেশের পতাকা হাতে তার এই দুর্বার দেশ জয় কতটা কঠিন ও বিপদসংকুল অভিযাত্রা ছিলো তা নিয়েই তিনি বলেন- যা কঠিন তা সুন্দর। পশ্চিম আফ্রিকা ভ্রমণের সময়ও আমি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। মৃত্যুকে জয় করে আজ আমার বেঁচে থাকা এই মৃত্যুঞ্জয়ী আমি বাকি সব দেশ ভ্রমণের স্বপ্ন দেখছি এখনও।

নাজমুন নাহার বলেন, ‘কোটি প্রাণের লাল সবুজের পতাকা হাতে পূর্ণ হলো দেশ ভ্রমণের আরেকটি ঐতিহাসিক রেকর্ড। ১২৫ দেশের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাকে নিয়েছি সর্বোচ্চ উচ্চতায়। বাংলাদেশের পতাকা হাতে যখনি আমি নতুন কোনো দেশের সীমান্তে পা দিয়েছি তখনই আমার সঙ্গে যেন জেগে উঠেছে ষোলো কোটি প্রাণ।’

যে নারী মৃত্যু ভয়ে পিঁছিয়ে যাননি, বাংলাদেশের পতাকা হাতে জয় করে চলছেন এক এক করে প্রতিটি যাত্রা। যে নারী বন্যপ্রাণী ভরা জঙ্গলে রাত কাটিয়েছেন, গরুর কাঁচা মাংস খেয়ে বেঁচে ছিলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দুর্গম আদিবাসীদের এলাকায় অভিযাত্রা করেছেন, ভ্রমণ কালে কতবার না খেয়ে বেঁচেছিলেন, মৃত্যুকে হাতে নিয়ে বহু উচ্চ পর্বত শৃঙ্গ জয় করেছেন, সামুদ্রিক দ্বীপ পূঞ্জের দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন।

তথ্য: জাগো নিউজ

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।