আজ-  ,
basic-bank
সংবাদ শিরোনাম :

জাবি ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিরাপত্তা প্রহরীর বিরুদ্ধে

জাবি প্রতিনিধি; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রীতিলতা হলের এক নিরাপত্তা প্রহরীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই নিরাপত্তা প্রহরীকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যৌন নিপীড়নবিরোধী কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রাশেদা আখতার।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম গোলাম কিবরিয়া। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হলের নিরাপত্তা প্রহরী বলে জানা গেছে।

নিপীড়নের শিকার নারী শিক্ষার্থী ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ দিবাগত রাত দুইটার দিকে নিপীড়নের শিকার নারী শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হল সুপারিনটেন্ডেন্ট রোকেয়া বেগমসহ হলের নিরাপত্তা প্রহরী হাবিব, শহীদ ও গোলাম কিবরিয়া অ্যাম্বুলেন্সে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সে তাদের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর একজন বান্ধবী ছিলেন। চিকিৎসা কেন্দ্রে নেয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে অভিযুক্ত গোলাম কিবরিয়া অসুস্থ শিক্ষার্থীর শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিতে থাকেন। পরবর্তীতে গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেলে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ দায়ের করেন নিপীড়নের শিকার শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ওই হলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

হলের শিক্ষার্থীরা জানান, গোলাম কিবরিয়ার ভাগ্নি ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রী হলেও প্রায়ই তাকে প্রীতিলতা হলে থাকতে দেখা গেছে। ইডেন মহিলা কলেজের ওই ছাত্রী মামার ক্ষমতা প্রদর্শন করে হলে থাকছেন।

ছাত্রীর অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্ত কমিটি ওই হলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে একটি নোটিশ দিয়েছে। নোটিশে কোনো শিক্ষার্থী হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীর দ্বারা কোনো রকম হয়রানির শিকার হলে তদন্ত কমিটিকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘অভিযোগ সত্য নয়। আমি সেদিন হল সুপারের নির্দেশে শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাই। পরে চিকিৎসা শেষে আবার হলে নিয়ে আসি। শুনেছি আমার বিরুদ্ধে নাকি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটে নাই। আর সেদিন আমিতো একা ছিলাম না, আমার সঙ্গে আরও পাঁচজন ছিলেন।’

প্রীতিলতা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক কৌশিক সাহা বলেন, ‘আমরা অভিযোগপত্র পেয়ে সেটা যৌন নিপীড়ন সেলে পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে আমি আর কিছু বলতে পারব না।’

যৌন নিপীড়নবিরোধী অভিযোগ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রাশেদা আখতার বলেন, ‘আমরা একটা অভিযোগপত্র পেয়েছি। তদন্ত কাজ চলছে। আপাতত অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।