নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের হুমকি; গ্রেফতার হয়েই জামিনে মুক্ত সেই সারোয়ার

সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার হোসেন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের দেড় ঘণ্টার মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। দুপুরে কোর্ট এলাকা থেকে তাকে প্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে, দোষীর বিচার দাবিতে আজও কর্মবিরতি করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

ঘটনা গত ৯ মের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও ক্লিপে দেখা যায় একজন ব্যক্তি অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে ডাক্তারদের দিকে তেড়ে আসেন। তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সরোয়ার হোসেইন চৌধুরী।

ভিক্টিম চিকিৎসক অভিযোগ করেন, সারোয়ার ১০/১৫ জন সঙ্গী নিয়ে এক রোগী ভর্তি করেন হাসপালে। রোগী দেখার সময় বাড়তি লোক বাইরে বের হওয়ার অনুরোধ জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন সারোয়ার। এক পর্যায়ে হুমকি দেন বাইরে বের হলে ধর্ষণ করে হত্যা করা হবে।
ভুক্তভোগী ডাক্তার বলেন, সে সিলেটি ভাষায় যেগুলো বলেছে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। আমি সেগুলো একটু ভালো ভাষায় প্রকাশ করেছি।
আন্দোলকারী এক ইন্টার্ন বলেন, সে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দিয়েছে। এগুলো তো মেনে নেয়া যায় না।
ঘটনার প্রতিবাদে ওইদিন থেকে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করেন ইন্টার্নরা। মঙ্গলবার তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে অন্যান্য মেডিকেলের শিক্ষার্থ ীরাও ২ঘন্টা কর্মবিরতি পালন করা হয়।
সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করে সারোয়ারের গ্রেপ্তার দাবী করা হয়। বেলা দেড়টার দিকে কোর্ট এলাকা থেকে সারোয়ারকে আটক করে পুলিশ। এরপর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন চিকিৎসকরা।
আন্দোলনরত চিকিৎকরা বলেন, আপাতত কর্মবিরতি স্থগিত করছি। আমরা অন্যান্য কলেজের সঙ্গে বসবো। এটা যেহেতু আইনের আওতায় গেছে। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন মামলা কীভাবে চলবে সেটা আইনের বিষয়।
এদিকে আটকের দেড়ঘন্টা পর জামিনে মুক্তি পেয়ে যান সারোয়ার। মুক্তির পর সারোয়ার দাবী করেন ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি সত্য নয়।
অভিযুক্ত সারোয়ার হোসেইন চৌধুরী বলেন, আমার ওপর হত্যা বা ধর্ষণের হুমকির যে অভিযোগ করা হয়েছে সম্পূর্ণ মিথ্যা।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম মিয়া বলেন, আমরা তাকে গ্রেফতার করি। কিন্তু তার আইনজীবী জামিননামা নিয়ে এসেছে।
সোমবার হাসপাতালের পরিচালক বাদি হয়ে ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ারসহ ৮/১০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: সৃষ্টি বার্তা থেকে কপি করা যাবে না।
0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap