আজ-  ,
basic-bank
সংবাদ শিরোনাম :

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শেষ মুহুর্তে ক্রেতাদের পদচারণায় মুখোরিত বিপনিবিতান

ডি এম কপোত নবী : পবিত্র মাহে রমযানের আর মাত্র ১০-১২ দিন রয়েছে। তারপর খুশির ঈদ পবিত্র ঈদুল ফিতর। তাই ঈদকে ঘিরে এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সকল মার্কেট গুলোতে ক্রেতাদের পদচারণায় মুখোরিত হয়ে উঠছে। প্রচন্ড ভ্যাপসা গরম পুরো রমযান মাস জুড়ে থাকার কারণে দিনের চেয়ে সন্ধ্যার পর মার্কেটগুলোতে ভিড় বাড়ছে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ-শিশুদের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিটি ফ্যাশনের রবিউল আলম বাবু ও আমিনুল ইসলাম জানান, ঈদকে ঘিরে এবার মেয়েদের বিভিন্ন ধরণের আইটেম আমাদের কালেকশনে আছে। গাউন, জিপসি, সানিয়া মির্জা, সারারা, লং কটি, নাগিন, সাকালাকা নামক পোষাক খুব চলছে। ভারতের নাম হলেও এসব পোষাক বাংলাদেশেই তৈরি হচ্ছে। দাম ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকার ভেতর এসব পোষাক বিক্রি হচ্ছে।
আমিনুল ইসলাম জানান, গতবারের তুলনায় এখন পর্যন্ত কেনাবেচা অনেক কম। বেচাকেনা কেন জমছে না প্রশ্ন করলে তিনি জানান, মানুষের হাতের অবস্থা ভাল না। ধানের দাম কম, আমের দাম কম থাকার কারণে বড় একটা গ্রাহক সংখ্যা এখনও কেনাকাটা করতে পারছে না। বড়দের তুলনায় বাচ্চাদের বেচাবিক্রিটা একটু বেশি হচ্ছে বলেও জানান আমিনুল।

অপরদিকে নিউমার্কেটের মাহিম ফ্যাশনের রাজন, রাজশাহী স্টোরের শফিকুল ইসলাম, বিসমিল্লাহ ব্র্যান্ড এর ফেরদৌস ও রহমান জানান, ছেলেদের পাঞ্জাবি, জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট, ছোটদের জামা-কাপড় মোটামটি বেচাবিক্রি হচ্ছে। তবে এখনও গতবারের মত সেরকম জমে উঠেনি। তবে বাচ্চাদের দোকানে প্রচুর ভীড় লক্ষ করা গেছে। ছোট বাচ্চাদের ১২ বছর পর্যন্ত পাঞ্জাবি, গেঞ্জি, টি-শার্ট প্রচুর বিক্রি হচ্ছে বলে জানান দোকানীরা। মাহিম ফ্যাশনের রাজন জানান, ছেলেদের পাঞ্জাবি ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। জিন্স প্যান্টও ৪০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে কোয়ালিটি ভেদে। শার্ট, টি-শার্ট বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার পর্যন্ত। ছোট বাচ্চাদের পোষাক ১০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা দরে বিভিন্ন কোয়ালিটি ভেদে বিক্রি হচ্ছে। রাজশাহী স্টোরের শফিকুল জানান, ২০ থেকে ২২ রমযানের পর থেকে বেচাকেনা কিছুটা বাড়বে। তখন বড়দের পোষাকটা বেশি বিক্রি হবে বলে আশা করছি। অন্যদিকে ফুটপাতের দোকান এবার তেমন না থাকলেও যেকটা রয়েছে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা গেছে।

শহরের ক্লাব সুপার মার্কেট, শহীদ সাটু মার্কেট, শিল্পকলা মার্কেট, পুরাতন বাজার, ডিসি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে ভিড় কিছুটা বেড়েছে ক্রেতাদের। জুতা-স্যান্ডেলের দোকানেও পছন্দমত কিনছেন ক্রেতারা। অপর দিকে শাড়ির দোকানগুলোতে হরেক রকমের শাড়ির আমদানি লক্ষ করা গেছে। দাম ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার, ১০ হাজার এবং তার চেয়ে বেশি মূল্যের শাড়ির কালেকশন আছে বলেও জানিয়েছে বিভিন্ন শাড়ি-কাপড় দোকানের মালিকগণ। যারা কাপড় কিনে পছন্দমত ড্রেস, জামা, প্যান্ট, শার্ট বানাচ্ছেন তারা দর্জির দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন শেষ মুহুর্তে। রাত এবং দিনে সমানতালে তাই দর্জি কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন গ্রাহকের অর্ডারের পোষাক বানাতে। যা চলবে চাঁদরাত বা সকাল পর্যন্ত। ক্রেতাদের টানতে কিছু মার্কেটে পণ্য কিনে কুপণ দিচ্ছে যা পরে র‌্যাফেল ড্র এর মাধ্যমে পুরস্কার দেয়া হবে।

এ ছাড়াও বিভিন্ন মার্কেটে কসমেটিকের দোকানগুলোতেও প্রচুর বেচাকেনা হতে দেখা গেছে। শেষ মুহুর্ত অর্থাৎ চাঁদরাত পর্যন্ত বেচাবিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন সব দোকানিরা। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পরিবার নিয়ে মার্কেটগুলোতে উপচেপড়া ভিড় বাড়বে ক্রেতাদের এমনটাই আশা করছেন সব ধরণের ব্যবসায়ীরা। সে আশাতেই এখন অপেক্ষা সকল ব্যবসায়ীদের।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।