১০০ টাকায় পুলিশে নিয়োগ দিতে কুষ্টিয়ায় মাইকিং পোষ্টারিং

পুলিশের সদস্য নিয়োগের আগে এমন উদ্যোগ অতীতে কখনো চোখে পড়েনি। বরং অনেকটা প্রকাশ্যেই পুলিশ সদস্য নিয়োগে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। পরীক্ষায় প্রথম হয়েও চাকুরি পাননি এমন রেকর্ডও আছে। তবে এবার পুলিশ সদস্য নিয়োগের আগে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারনা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে চাকুরি পেতে কোন অর্থ লেনদেন না করতে অনুরোধ জানিয়ে মাইকিং, পোষ্টারিং করাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারনা চালানো হচ্ছে। স্ব-স্ব থানার ওসিরাও নিজ নিজ এলাকায় প্রচারনা চালাচ্ছেন।

শুধু লোক দেখানো প্রচারনা যেন না হয়, সত্যিকার অর্থেই যোগ্যতার বলে যেন প্রকৃত মেধাবীরা নিয়োগ পাই সেই দাবি সচেতন নাগরিকদের। জেলা পুলিশ সুত্র জানিয়েছে, আগামী ১ জুলাই কুষ্টিয়ায় পুলিশ “ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল” পদে পুরুষ ও নারী নিয়োগ দেয়া হবে। নিয়োগ স্বচ্ছতার সাথে শেষ করতে জেলা পুলিশ ব্যাপক প্রচারনা চালাচ্ছে। বিশেষ করে একজন কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেতে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। অনেকে টাকা দিয়ে ও চাকুরি থেকে বঞ্চিত হন। আবার নিয়োগের কথা বলে প্রতারক চক্র অর্থ হাতিয়ে নেয়। আবেদনকারীরা যাতে সরকার নির্ধারিত ১০০টাকার চালান ফি দিয়েই চাকুরি পেতে পারেন সে বিষয়টি তরান্বিত করতে প্রথমবারের মত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং, পোষ্টারিংসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারনা চালানো হচ্ছে।

সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সবাইকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাতে মেধা যোগ্যতায় এবং সততার সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, প্রতারক বা দালাল চক্রের সাথে কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন না করা, কোন র্প্রার্থী আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত থাকলে ও অন্যায় তদ্ববির করলে প্র্র্রার্থীতা বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও পুলিশের কোন সদস্য ও কর্মকর্তা যদি আর্থিক সুবিধা নিয়ে চাকুরি দেয়ার কথা বলে সেই তথ্যেও জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। কুষ্টিয়া মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম বলেন,‘ পুলিশ সদস্য নিয়োগ পুরোপুরি স্বচ্ছতার সাথে করতে ব্যাপক প্রচারনা চালানো হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে।’ পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন,‘ অতীতে কি হয়েছে সেটা বিবেচ্য নয়। এখন থেকে চাকুরি পেতে একজন চাকুরি প্রার্থীকেও ঘুষ দিতে হবে না এটা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে। কেউ যদি ঘুষ লেনদেন করে উভয়কে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তাই যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে সচেতন হতে হবে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভাল উদ্যোগ নিলে নানা রকম বাঁধা আসতে পারে।

সবাই মিলে কাজ করলে সফল হওয়া সম্ভব।’ জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম টুকু বলেন,‘ ঘুষ দিয়ে চাকুরি নেয়ার ফলে পুলিশ সদস্যরা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। তাই পুলিশ সদস্য নিয়োগ স্বচ্ছতার সাথে হলে দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেকখানি কমে যাবে। জেলা পুলিশ যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটা যেন শেষ পর্যন্ত ভাল ভাবে শেষ হয়। কথার সাথে কাজের মিল থাকতে হবে। লোক দেখানোর জন্য যেন এমন উদ্যোগ না হয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0 Shares
Share via