স্বামীর লাথিতে গর্ভের সন্তানের মৃত্যু, ওসি নেননি মামলা

রাজশাহীর দুর্গাপুরে স্বামীর নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে গৃহবধূর গর্ভের সন্তানের। এ নিয়ে মামলা করতে গেলে মামলা নেননি ওসি আবদুল মোতালেব। বরং সালিশের জন্য চাপ দিয়ে গেছেন নির্যাতিত গৃহবধূকে।

নির্যাতিত গৃহবধূ অভিযোগ করেছেন, মোটা অঙ্কের অর্থের (ঘুষ) বিনিময়ে নির্যাতনকারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন ওসি। তাকে বিদেশে যেতে করেছেন সহযোগিতা।

সূত্র মতে, মহিপাড়া গ্রামের দেদার মণ্ডলের ছেলে দুবাই প্রবাসী সোহেল রানার (৩০) সঙ্গে একই গ্রামের রইচ শাহ্র মেয়ে শিমু ইয়াসমিন লিপির (২৬) প্রায় ৭ বছর আগে ভিডিও কনফারেন্সে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে লিপি সোহেলের বাবার বাড়িতেই থাকতেন।

কিছু দিন আগে পাঁচ মাসের ছুটি নিয়ে দেশে আসেন সোহেল। এরপর দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। এ কারণে মাঝেমধ্যেই লিপিকে নির্যাতন করতেন তিনি।

থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগে লিপি লিখেছেন, ১৯ জুন বিকাল ৫টার দিকে স্বামী সোহেল তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। গালিগালাজের কারণ জানতে চাইলে তাকে মারধর করেন তিনি। এক পর্যায়ে তলপেটে লাথি মেরে তাকে উঠোনে ফেলে দেন।

রাতে তার রক্তপাত শুরু হলে পরের দিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, নির্যাতনের কারণে তার চার মাসের গর্ভের সন্তান মারা গেছে। পরে গর্ভপাত করানো হয়।

লিপি জানান, চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর নারী নির্যাতন ও গর্ভপাতের অভিযোগ এনে স্বামী সোহেলকে আসামি করে ২ জুলাই দুর্গাপুর থানায় মামলা করতে যান তিনি। এ সময় ওসি আবদুল মোতালেব এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। ওসির কথামতো লিখিত অভিযোগ করা হয়। এরপর অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড না করে এএসআই আজাদকে তদন্তের দায়িত্ব দেন ওসি।

লিপি বলেন, ওসি মোতালেব মামলা রেকর্ডে কালক্ষেপণ করেছেন। ১০ জুলাই আমাদের থানায় ডেকে সালিশ বৈঠক বসান তিনি। কিন্তু সেখানে আমার স্বামী হাজির না থাকায় আমরা ওসির ডাকে সাড়া দেইনি। পরে ওসি সালিশে বসার জন্য আবারও চাপ দেন। আমরা উপস্থিত হলে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার জন্য চাপ দেন তিনি। একপর্যায়ে সালিশ বৈঠক থেকে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চলে অসি।

লিপি বলেন, এর মধ্যে আমার স্বামী ছুটি শেষ হওয়ার আগেই গোপনে দুবাই চলে গেছেন। সোহেল যেন বিচারের মুখোমুখি না হয় এবং নির্বিঘ্নে দুবাই চলে যেতে পারে- এ কারণে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাকে সহযোগিতা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার স্বামীর পরিবারের সদস্যরা চাননি আমার সন্তান ভূমিষ্ঠ হোক। এ কারণেই নির্যাতন করে সন্তানটি নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। জানতে চাইলে ওসি আবদুল মোতালেব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন না করার জন্য অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। এ কারণেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি। মীমাংসার জন্য কোনো চাপও দেয়া হয়নি। ‘মীমাংসা হয়নি’- লিপির এ দাবি প্রসঙ্গে ওসি বলেন, তিনি (লিপি) ভুল বলেছেন। মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে সোহেলকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগটিও সঠিক নয়। সূত্র; দৈনিক যুগান্তর  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap