রেশম কারখানা পরিদর্শন করলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁওয়ের অন্যতম ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান রেশম কারাখানা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম।গত মঙ্গলবার তিনি শহরের গোবিন্দনগরস্থ রেশম কারখানা পরিদর্শন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম পরিদর্শনের সময় বলেন, কারখানাটি ২০০৩ সালে হতে বন্ধ রয়েছে। অথচ জমি, যন্ত্রপাতি ও কাচামাল সবই রয়েছে এখানে। তৎকালীন সরকারের অদূরদর্শিতার কারণে বন্ধ হয়ে যায় কারখানাটি। পুনরায় কারখানাটি চালু করার লক্ষ্যে সকল সম্ভবনাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান তৈরি করে জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারখানাটি চালু জরুরী বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, লোকসানের কারণে দীর্ঘ ১৫ বছর আগে বন্ধ হয়ে যায় কারখানাটি। কয়েক দফায় সরকারের পক্ষে চালুর পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁওয়ে রেশম কারখানা চালুর বিষয়ে ১১ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়। গত ৩ এপ্রিল জেলা শহরের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় অবস্থিত কারখানাটি পরিদর্শন করেন কমিটির সদস্যরা। কারখানাটি চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের গঠন করা কমিটির ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলে যে কোনো সময় কারখানাটি চালু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এক সময় ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী রেশম কারখানায় উৎপাদিত হতো মসৃণ সিল্ক কাপড়। ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানা বন্ধ হওয়ার পর প্রায় পাঁচ হাজার রেশম চাষি বেকার হয়ে পড়েন।

তবে এখনও প্রায় দুই হাজার চাষি রেশম চাষ ধরে রেখেছেন। কিন্তু তুঁতগাছের অভাবে তারা গুটিপোকা পালন করতে পারছেন না। তা ছাড়া পুঁজি ও উপকরণের অভাবে তারা এখন বিপাকে পড়েছেন। পাঁচ হাজার চাষি বেকার হয়ে পড়ায় তারা ভিন্ন পেশায় চলে গেছেন। অন্যদিকে অব্যবহৃত থাকায় রেশম কারখানার ৫০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে চলেছে। অথচ কারখানাটি চালু হলে রেশম চাষের সঙ্গে যুক্ত পাঁচ হাজার চাষির আবার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ১৯৭৭-৭৮ সালে বেসরকারি সংস্থা আরডিআরএস ঠাকুরগাঁওয়ে এই রেশম কারখানাটি স্থাপন করে। ১৯৯৫ সালে রেশম কারখানাটি আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে।

লোকসানের অজুহাতে ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0 Shares
Share via