ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মোশারফ করিম-এর জন্মদিন

তানজিদ শুভ্রঃ মজার সব সংলাপ আর দর্শক মাতানো অভিনয় দিয়ে বর্তমান সময়ে যিনি বাংলাদেশের ছোটপর্দায় বিশেষ এক জায়গা ধরে রেখেছেন, তিনি কে বলুন তো? জ্বি, অভিনেতা মোশারফ করিম-এর কথাই বলছি! যে ধরনের চরিত্রই তাকে দেয়া হোক না কেন, বেশ সাবলীলভাবেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন প্রতিবার। ছোটপর্দার খ্যাতিমান এই অভিনেতার জন্মদিন আজ! আড়িয়াল খাঁ নদের পাশে ছোট্ট এক গ্রাম- পিঙ্গল্কাঠী। সেই ছোট্ট গ্রামেই ১৯৭২ সালের ২২শে আগস্ট তিনি জন্মগ্রহন করেন। তাঁর বাবাঃ আব্দুল করিম। আব্দুল করিমের ১০ ভাই বোনের মধ্যে মোশারফ করিম ছিল ৮ম। ছোটবেলায় ছিল ভীষণ দুষ্টু। পড়াশোনা শুরু হয়েছিল গ্রামে আর পরে ঢাকায়। ঢাকায় তেজগাঁও কলেজ ও ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেছেন।
অভিনয়ের প্রতি তার অগাধ আগ্রহ সেই স্কুল থেকেই। থিয়েটারে কাজ করার মধ্য দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু হলেও ১৯৮৬ সালে ‘নাট্যকেন্দ্র’ নামক একটি মঞ্চ নাটক দলে তিনি যোগদান করেন। ১৯৯৯ সালে ‘অতিথি’ নামক নাটকে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। ২০০৪ সালে “জয়যাত্রা” সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় আসে মোশারফ। তবে তার অভিনীত ‘ক্যারাম’ টেলিফিল্মটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। ২০০টির বেশি একক নাটকে অভিনয় করা এই শিল্পী ২০০৮ সালে পেয়েছেন “মেরিল প্রথম আলো- সমালোচক পুরস্কার”। আর ২০০৯ সালে পেয়েছেন তারকাজরিপ পুরস্কার।২০১৫ সালে “জালালের গল্প” চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধম্যে আভাঙ্কা চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরষ্কার অর্জন করেন।
তার অভিনীত বিখ্যাত কিছু নাটক হল- ‘ফ্লেক্সিলোড’, ‘আউট অফ নেটওয়ার্ক’, ‘বিহাইন্ড দ্যা সিন’, ‘ক্যারাম(প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্র’), ‘জর্দা জামাল’, ‘সিকান্দার বক্স (সিরিজ)’, ‘সেই রকম চা খোর’ ইত্যাদি। ‘এফ এন এফ’, ‘৪২০’, ‘ফিফটি ফিফটি’, ‘ভবের হাট’, ‘হাউস ফুল’, ‘চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই’, ‘মাইক’ ধারাবাহিক নাটকে দর্শক তাকে দেখেছেন বহুবার। ২০০৭ সালে ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ২০০৯ সালে ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ২০১২ তে ‘প্রজাপতি’ এবং ২০১৩ তে ‘টেলিভিশন’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিঃসন্দেহে দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন অজস্র বার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap