ভূমি দলিল নিবন্ধন খাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে ; টিআইবি

ভূমি দলিল নিবন্ধন খাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘সেবা দেওয়ার নামে সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে, সময়ক্ষেপণ করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ আদায় ও ঘুষ আদায় করা হচ্ছে। দুর্নীতির মহোৎসব চলছে।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

‘ভূমি দলিল নিবন্ধন সেবায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অন্য প্রায় সব খাতের মতো এ খাতেও আইনি দুর্বলতা, সেবার মানোন্নয়নে ও নীতি-নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনবল, অবকাঠামোগত, পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটালাইজেশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পিছিয়ে পড়েছে। অবকাঠামোগত দিক থেকে অধিকাংশ ভূমি অফিস জরাজীর্ণ। সুশাসনের ঘাটতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। যা সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত করছে।’

‘তবে কিছু ভূমি দলিল নিবন্ধন অফিসে ব্যতিক্রমও পেয়েছি। অনেক কর্মকর্তা জবাবদিহিতার সঙ্গে স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সে সংখ্যা তুলনায় খুবই কম। মোটা দাগে এ খাতে জবাবহিদিতা ও অভ্যন্তরীণ যে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে কাজ করছে না। এর কারণ হচ্ছে, এ সেবাখাতে যে দুর্নীতি-অনিয়ম হচ্ছে, তা অংশীদারিত্বের ও যোগসাজশের মাধ্যমে হচ্ছে। সেখানে সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দুর্নীতি হচ্ছে। যা কিনা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছে,’ যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সার্বিক চিত্রানুযায়ী, অন্যান্য খাতের মতোই ভূমি দলিল নিবন্ধন অফিসে স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা দেখতে পাই। যা কিনা সুশাসনের ঘাটতিকে জটিল ও দুর্নীতিকে আরো উগ্রতর করে। সেবাখাত মানেই সুশাসনের ঘাটতি ও দুর্নীতিপ্রবণ। দলিল নিবন্ধন ও দুর্নীতি যেন অনেকটা সমার্থক হয়ে গেছে। এ খাতে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতি ও ঘুষ লেনদেনের চিত্র বিরাজ করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমনও দৃষ্টান্ত আছে যে একজন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করতে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়েছে।’

ড. ইফতেখার বলেন, ‘ প্রথমত, এ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব। দুর্নীতির অংশীজনদের নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং এবং দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে সেবাগ্রহীতারা হয়রানি থেকে রক্ষা পাবেন। এ খাতে রাজস্ব আরো বাড়বে। দ্বিতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি ও আধুনিকায়নকে গুরুত্ব দিতে হবে। যদিও সরকার এ কার্যক্রম গ্রহণ করলেও অগ্রগতি নেই। এক্ষেত্রে ই-নিবন্ধনসহ পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজ করতে হবে। এটা সম্ভব হলে, এ খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম কমে আসবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সুলতানা কামাল, উপদেষ্টা (নির্বাহী) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা পরিচালনা ও প্রতিবেদন উপস্থাপন করে প্রোগ্রাম ডেপুটি ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) শাম্মী লায়লা ইসলাম এবং প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) নিহার রঞ্জন রায়। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap