পঞ্চম দফায় ভাসানচরে স্থানান্তরের দ্বিতীয় দিনে ভাসানচর যাচ্ছেন আরও ১ হাজার ৭শ’ ৫৯ রোহিঙ্গা। পঞ্চম দফার স্থানান্তর প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় দিন আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রামের বোটক্লাব ঘাট থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌযানগুলো। এর আগে, বুধবার পতেঙ্গার অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে নৌবাহিনীর ৬টি জাহাজে করে ভাসানচর নেয়া হয় দুই হাজার ২৬০ রোহিঙ্গাকে।
গেল সোমবার থেকে স্বেচ্ছায় ভাসানচর যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে উখিয়া ডিগ্রি কলেজে নেয়া হয়, সেখান থেকে ধাপে ধাপে চট্টগ্রামে নেয়া হয়।
গত ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ দফায় ৪ হাজার রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া চলতি বছরের ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় দফায় ৩ হাজার ২৪২ জন। তারও আগে ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় ১ হাজার ৮০৪ জন এবং ২০২০ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে স্থানান্তরিত হন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে আগস্ট পরবর্তী সময়ে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। এরও আগে থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় আরও ৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। নতুন ও পুরাতন মিলিয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছিলেন ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা।
আশ্রিত রোহিঙ্গাদের এদেশে সাময়িক অবস্থান যেন আরো শোভন হয়, সে চেষ্টার কমতি করেনি সরকার। প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার। তাই তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ করে ভাসানচরে গড়ে তোলা হয় বিশাল আশ্রয়ন প্রকল্প।
ভাসানচর আশ্রয়ন প্রকল্পে ১৪৪০টি ঘর এবং ১২০টি সাইক্লোন সেন্টারে থাকতে পারবেন ১ লাখ ১ হজার ৩৬০ জন রোহিঙ্গা।