হবিগঞ্জে শিলা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে ফসলি জমির। বিশেষ করে জেলার আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলায় বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে হঠাৎ করেই ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ব্যাপক শিলা বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টা খানেক ধরে চলা এ শিলাবৃষ্টি মুহূর্তের মধ্যেই তচনচ করে দেয় হাওরের বোরো ফসল।
হাওরের সবজি ক্ষেত্রের সঙ্গে বোরো জমির ধান গাছের চারা ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। আর এতে করে মাথায় হাত পড়েছে হাজারো কৃষকের। যদিও কৃষি বিভাগের দাবি, শিলা বৃষ্টিতে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।
জানা যায়, শিলাবৃষ্টির কারণে ধানের চারাগুলো ভেঙে মাটিতে পড়ে যায়। সবচেয়ে বেশিগ্রস্ত হয়েছে আড়িয়ামুকুর হাওর, হারুনী হাওর, কাটখালি হাওর, বদলপুর হাওর, ভেড়ারডোর হাওর, লক্ষী বাওর হাওর, চর ভেড়ারডোর হাওর, পাহারপুর হাওর।

এছাড়াও ছোট ছোট আরো বেশ কয়েকটি হাওরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও শিলা বৃষ্টির আঘাতে মাটির সঙ্গে নুইয়ে পড়েছে উঠতি ফসল গম, মসুর, ভূট্টা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন ফসল ও সবজি। ঝরে পড়েছে সজনে ও আমের মুকুল। কোনো কোনো বাগানে আম গাছের ডালপালাও ভেঙে পড়েছে।
কৃষকরা জানান, দীর্ঘ সময় নিয়ে শক্তিশালি শিলা বৃষ্টি হওয়ায় হাওরের বোরো জমিগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এছাড়া অধিকাংশ বোরো জমির ধান গাছগুলো ভেঙে গেছে। যেগুলোতে আর ধান আসার সম্ভাবনাই নেই। এতে মাথায় হাত পড়েছে তাদের। মঙ্গলবার জমির এই পরিণতি দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক কৃষক।
নবীগঞ্জের ইমামবাড়ী এলাকার কৃষক ফজলুর রহমান বলেন, শিলা বৃষ্টিতে মাঠের উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মসুর গমসহ ধানের চারাগুলো ভেঙে পড়েছে। যেগুলো আবার সোজা হয়ে দাঁড়াবে কি না তার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।
কৃষক বজলুর রহমান বলেন, জমি থেকে মসুর ওঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ শিলা বৃষ্টির কারণে মসুরের সব ফল ঝরে গেছে। এটাই ছিলো আমার একমাত্র ফসল।

বাহুবল উপজেলার কৃষক ফারুক মিয়া ও কৃষক সাজু বলেন, শিলা বৃষ্টির কারণে গাছের পাতা পর্যন্ত ঝরে গেছে। মাঠের সব ফসলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকরা সহজেই এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন না।
বানিয়াচং উপজেলার কৃষক মতি লাল দাশ বলেন, শিলা বৃষ্টির কারণে আমার প্রায় ১২ ক্ষের জমির ধানী ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। আমি কৃষক মানুষ। বৈশাখে যদি ঘরে ধান তুলতে না পারি পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক তমিজ উদ্দিন বলেন, শিলাবৃষ্টিতে কিছু কিছু হাওরে ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। তবে বড় ধরণের কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। মাঠে আমাদের মাঠকর্মীরা রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে ক্ষয়-ক্ষতির সঠিক তথ্য পরে জানতে পারব।