দেশে হত্যা মামলায় খালাস পেয়ে যাচ্ছেন ৫১ শতাংশ মামলার আসামি। এর মধ্যে বাদী-বিবাদীর আপোষে সাজার বাইরে থাকছেন ৪০ ভাগ। সম্প্রতি ২৩৯টি মামলা পর্যালোচনা করে পিবিআই জানাচ্ছে, বিচারে দীর্ঘসূত্রতা, স্বেচ্ছায় বা ভয়ে সমঝোতা, তদন্তে ত্রুটি ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ভুলসহ নানা কারণে ঘটছে এই ঘটনা।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ২০০৫ সালে রমানন্দ পালিতকে হত্যা মামলার একমাত্র আসামি ফোরকান। আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিলেও সম্প্রতি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন তিনি। পাশাপাশি আপোসের কথা জানিয়ে নথি দাখিল করেন রমানন্দের স্বজনেরা।
কিন্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০২ ধারায় দায়ের হত্যা মামলায় আপসের কোনো বিধান নেই। এতে বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
এবিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ বলেন, হত্যাকারী যাতে দ্রুত মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়, সেটি না চেয়ে উল্টো এজহারকারী বা বাদীপক্ষ এসে আপোষনামা দাখিল করে আসামীর জামিন চাচ্ছে। এটি আদালত অত্যন্ত নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইয়ের করা গবেষণা বলছে, নানা কারণে বিচারিক আদালতে ৫১ ভাগ মামলায় খালাস পান আসামিরা। এর বড় কারণ বাদী-বিবাদীর আপোষ। ২৩৯টি হত্যা মামলা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এতে সাজা হয়েছে ৪৯ শতাংশ মামলায়। আর খালাস পাওয়া মামলায় শুধু বৈরি সাক্ষীর কারণে সাজার বাইরে থাকে ৪০ ভাগ।
পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলছেন, এইসব মামলাগুলোর সাক্ষীরা হয় আদালতে যায়নি, আর গেলেও বলছে তারা কিছুই দেখেনি। না হয় বলছে এতদিন পরে আমি সব কিছু ভুলে গেছি।
আসলে এতদিন পরে আদালতের কার্যক্রম হওয়ার করণে ওই সময়ের মধ্যে তারা আসামি পক্ষের সাথে আপোষ করে ফেলে। যার কারণে মামলাগুলোর সঠিক বিচার শেষ পর্যন্ত আর করা হয় না বলেও জানান তিনি।
আইনবিদেরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে আসামী পক্ষের চাপে পড়েও আপোস করতে হয় বাদীর। সে কারণে বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য নিতে আরও সতর্ক থাকতে বলছেন তারা। তাহলেই এড়ানো যাবে বৈরী সাক্ষী। কারণ হত্যা মামলার বাদী রাষ্ট্র।
আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, এগুলো মামলায় আপোষ করার কোনো বিধান নাই।
পিবিআইয়ের গবেষণা আরও জানাচ্ছে, বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় ঠিকমতো সাক্ষ্য দেন না সাক্ষীরা। আর এর সুযোগ নেয় আসামিরা। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে তদন্তে ত্রুটি থাকার কারণে খালাস পান ১২ শতাংশ মামলার আসামি।