বগুড়ার ধুনট উপজেলায় প্রতারকরচক্র ভুয়া শিক্ষক ও কর্মকর্তা সেজে ফোন দিয়ে ওটিপি নম্বর নিয়ে অভিভাবকদের মোবাইলের নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আজ রবিবার পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেমের প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কমপক্ষে শতাধিক অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সেবা কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। কিন্তু আধুনিক এ ব্যাংকিং সুবিধা সম্পর্কে অভিভাবকদের সুস্পষ্ট ধারণা নেই। এ সুযোগে প্রতারকচক্র অভিভাবকদের ধোঁকায় ফেলে কখনো নগদের এজেন্ট, আবার কখনো শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষক পরিচয় দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে গোপন পিন নম্বর। ফলে বৃত্তির টাকা সহজেই হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকচক্র।
এ উপজেলার ২০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ হাজার ৭২৩ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তির আওতায় নেওয়া হয়েছে। প্রতি তিন মাস পর পর মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে এই টাকা প্রদান করা হয়। প্রাক প্রাথমিকের প্রত্যেক শিক্ষার্থী মাসে পায় ৭৫ টাকা এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী পায় ১৫০ টাকা। ২০২০ সালের চতুর্থ কিস্তির এপ্রিল, মে, জুন মাসের জন্য ৯৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বুধবার থেকে রবিবার পর্যন্ত প্রায় অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীর অভিভাকদের মোবাইলে এই টাকা পাঠানো হয়েছে।
টাকা পাঠানোর পরে মোবাইল ব্যাংকিং নগদ কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের মেসেজ পাঠায়। এরপর ফোন করে প্রত্যেক অভিভাবকদের মোবাইল নম্বরে নগদ অ্যাকাউন্ট চালু করতে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) সেট করতে বলা হয়। অ্যাকাউন্ট চালু হলে অভিভাবকরা টাকা তুলতে পারেন। কিন্তু টাকা মোবাইলে পৌঁছানোর পর থেকেই প্রতারকচক্র উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নগদের এজেন্ট, শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধানশিক্ষক পরিচয় দিয়ে কম টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানায়। এ সময় বেশি টাকা পাঠানো হবে বলে নগদের ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড চাইলে অনেক অভিভাবক তা প্রতারকদের দিয়ে দেন। এরপর এসব অভিভাবকদের মোবাইল অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে যায়।
উপজেলার ভান্ডারবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক জাহিদুল ইসলাম, লাল মিয়া, মহল আলী ও বাদশা মিয়াসহ অন্তত ১৫ অভিভাবক জানান, ফোন করে শিক্ষকের কথা বলে মেসেজে আসা নম্বরটা চাইলে দিয়ে দেই। পরে মোবাইল নিয়ে দোকানে টাকা তুলতে গেলে দেখি টাকা নাই।
এ বিষয়ে কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, এ প্রতারণার বিষয়টি তারা অভিভাবকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। গ্রামাঞ্চলের অভিভাবকরা তেমন সচেতন না। তাদের ফোন করে গোপন পিন নম্বর জানতে চেয়েছে। আর তারা সেটা বলে দিয়েছেন। আর এভাবেই প্রতারকচক্র তাদের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
ধুনট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) ফেরদৌসি বেগম বলেন, অভিভাবক ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক প্রতারণার বিষয়টি জানিয়েছেন। এরপর এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরকে আমরা জানিয়েছি। প্রতারকদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করতে এরই মধ্যে প্রচারকাজ শুরু করেছি।
#kalerkantho