ইতালিতে কোনোভাবেই কমছে না করোনার দাপট। এক বছরে মারা গেছেন এক লাখের বেশি। আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ লাখের বেশি। অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি কমে গেছে কর্মসংস্থান। সোনালি জীবনের খোঁজে ছুটে চলা মানুষের কাছে জৌলুস হারাচ্ছে ইতালি। নেই পর্যটকদের আনাগোনাও।
৩ হাজার বছর পুরনো ইতালির রাজধানী রোম। একসময় পৃথিবীর রাজধানী খ্যাত রোম এখন গুরুত্বপূর্ণ ৬৬টি শহরের মধ্যে ৬৫তম। আর হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্প বলা ইতালির বাণিজ্যিক রাজধানী মিলানের অবস্থান ৬৩তম।
ক্যারিয়ার, আয়, কর্মজীবনের ভারসাম্য এবং গণপরিবহনের সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক অভিবাসীদের মতামতের ভিত্তিতে ২০২১ সালের জরিপে সবচেয়ে অপছন্দের আবাসস্থল নির্বাচিত হয়েছে এ দুই শহর। এমন খবরে হতাশ প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
২০২০ সালের মার্চে ইতালিতে প্রথম করোনা শনাক্তের পর লকডাউন জারি করা হয়। এতে বেকারত্বের হার বেড়ে প্রায় ৩০ শতাংশে দাঁড়ায়। জিডিপি কমে হয় ৮ দশমিক ৯ শতাংশ। চাকরি হারায় লাখ লাখ মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নেয়া পদক্ষেপও হতাশাজনক। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এখনও পিছু ছাড়েনি ইতালির। সব কিছু মিলিয়ে ইতালির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে সচেতন দক্ষ অভিবাসীরা।
এদিকে ইতালিতে শুক্রবার (১২ মার্চ) অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘী। একই সঙ্গে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ১০টি অঞ্চলকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী সোমবার থেকে ওইসব এলাকায় স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে।
উল্লেখ্যে, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও অক্সফোর্ড কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ওপর স্থগিতাদেশ দেয় ইতালির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) সতর্কতার অংশ হিসেবে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও অক্সফোর্ড কোভিড ভ্যাকসিনের একটি ব্যাচকে নিষিদ্ধ করা হয়। ইতালীয় মেডিসিন এজেন্সি (এআইএফএ) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় যে কিছু ‘মারাত্মক বিরূপ ঘটনা’ হওয়ার পরে ইতালিতে ভ্যাকসিনের ব্যাচ নম্বর ABV২৮৫৬ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, যে ভ্যাকসিন এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে বর্তমানে কোনও প্রতিষ্ঠিত যোগসূত্র নেই। তবে এটির অবস্থান ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘীর অফিস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।