ঠাকুরগাঁও পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বে থাকা লোকজনকে ম্যানেজ করে অন্যজনের মিটার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে অবৈধ দুইটি ইটভাটায় পরিচালনা করে আসছেন জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মিরাজ-১ ও মিরাজ-২ ইট ভাটার মালিক দানেশ আলী।
স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১০ মার্চ) উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের ইটভাটা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজন। প্রমাণ পাওয়ার পরও লোক দেখিয়ে ৫শ’ টাকা জরিমানা আদায় করলেও সংযোগটি বিচ্ছিন্ন না করায় বিষয়টি নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগকারী ওই এলাকার বাসিন্দা রেজওয়ানুল হক জানান, বারেক নামে এক ব্যক্তির আবাসিক মিটার থেকে বাঁশ দিয়ে তার লাগিয়ে অবৈধ ইট ভাটায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছিল ইট ভাটার লোকজন। আমি বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসে অভিযোগ দিলে মাত্র ৫শ’ টাকা জরিমানা করে সকাল বেলা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে সন্ধ্যায় পুনরায় বিদ্যুতের সংযোগ লাগিয়ে দেয় পবিসের লোকজন।
তিনি আরো জানান, দীর্ঘদিন ধরে পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে ম্যানেজ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছিল ইট ভাটার মালিক দানেশ। তাছাড়া এতবড় একটি ইটভাটা দীর্ঘ ৬ বছর ধরে পরিচালনা করছে মিটার বিহীন। এটা কিভাবে সম্ভব? উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেবেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির লোকজন অল্প কোনো অনিয়ম পেলেই ১০-২০ হাজার জরিমানা আদায় করে। এ ঘটনায় একবারে ব্যতিক্রম। তাতে বোঝা যায় পল্লীৎবিদ্যুতের কর্মকর্তারা এর সঙ্গে জড়িত।
ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম মুঠোফোনে জানান, অন্যজনের মিটার থেকে সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার নিয়ম অনুযায়ী ৫শ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মিরাজ ১ ও মিরাজ ২ এর নিজস্ব কোন বৈদ্যুতিক মিটার না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, সংযোগ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। সেটি প্রক্রিয়াধীন। অন্য কোনো বিষয় জানার থাকলে অফিসে আসেন।
ইট ভাটার মালিক দানেশ আলী মুঠোফোনে জানান, এমনিতেই অনেক চাপে আছি। আপনারা আর কিছু লেখালেখি করিয়েন না। মিটারের মালিক আব্দুল বারেক সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।
এর আগে গত ৯ মার্চ অবৈধ ওই দুইটি ইট ভাটায় অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরদার মো. গোলাম রব্বানী। ২ লাখ টাকা জরিমানাসহ ৩০ দিনের মধ্যে ভাটা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন তিনি।