১০ বছর আগে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের যে আগুন জ্বলে উঠেছিলো, তা এত বছরেও নেভেনি। দিনের পর দিন আলোচনা আর সংলাপ কোন মতেই পারেনি বিবাদমান পক্ষগুলোকে ঐকমত্যে আনতে। বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক খেলায় মানবেতর জীবন যাপন করছে সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিরীয় শিশুরা।
রাজকাহন
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আলেপ্পোর আর দশটা শিশুর মতই একজন আবু রাদান। তবে পার্থক্যটা অন্যখানে। আসাদবিরোধী আন্দোলনের সময় জন্ম নেয়া ১০ বছরের আবু রাদান পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিন বোন আর বাবা, মাকে নিয়ে শরণার্থী শিবিরের একটা তাবুতেই বসবাস করতে হয় তাকে। যে বয়সটা হেসে খেলে বেড়ানোর কথা, সিরীয় গৃহযুদ্ধ সেই বয়সেই তাকে ঠেলে দিয়েছে জীবন সংগ্রামে।
দিনের আলো ফুটতেই, তীব্র শীতের মধ্যেই রাদানকে ছুটতে হয় কারখানার দিকে। কোন কোন দিন শীতের সঙ্গে যুক্ত হয় বৃষ্টি কিংবা তুষারপাত। তুর্কি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রতিদিন হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে মজুরি জোটে মাত্র ১৩ ডলার।
সিরীয় শরণার্থী আবু রাদান বলেন, প্রতিদিন ভোর ৬টায় কাজে যেতে হয়। বেশিরভাগ সময়ই হেঁটে। কাজ থেকে ফিরি সেই সন্ধ্যেবেলা। এত ক্লান্ত থাকি, এসেই খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হয়। ভীষণ কষ্টের এই জীবন।
দু’বছরের বেশি সময় ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত আবু রাদানের বাবা ইউসেফ রাদান জানান, গ্রাম ছেড়ে এসেছি বহু বছর। আমাদের যা ছিলো সবই যুদ্ধে শেষ হয়ে গেছে। দুই বছর ধরে আমিও বেকার। পরিবারের মুখে খাবার জোটানোই মুশকিল। বাধ্য হয়েই রাদানকে কাজে দিতে হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে ওর ছোট বোনটাকেও কাজে পাঠাতে হবে। কী যে দুর্দশায় আছি বলে বোঝাতে পারবো না।
ইউনিসেফের তথ্যমতে, যুদ্ধ আর সংঘাতে প্রায় ২৫ লাখ সিরীয় শিশু স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। অনিশ্চিত জীবনে স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন তাই অনেকটাই ফিকে আবু রাদানের কাছে।
আবু রাদান আরো বলেন, আমাদের একটা সুন্দর বাড়ি ছিলো। প্রতিদিন বন্ধুদের সাথে স্কুলে যেতাম। কিন্তু ওরা আমাদের বাড়ি আর স্কুল দুটোই ধ্বংস করে দিয়েছে। আমার কাজ করতে একদমই ভালো লাগে না। আবারো স্কুলে যেতে চাই।
জাতিসংঘ বলছে, সিরিয়ার ৯০ শতাংশ শিশুরই মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। গেল বছরের চেয়ে যা বেড়েছে ২০ শতাংশ। সংস্থাটি আরো বলছে, দেশটিতে শিশুদের প্রতি সহিংসতার ৭৫ শতাংশই হত্যা, অঙ্গচ্ছেদ, জোর করে যুদ্ধে পাঠানো ও যৌন নির্যাতন।