২১ বছরের একটা শর্তের বেড়াজালে পড়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়া থেকে আপাতত শামিমা বেগম বঞ্চিত থাকলেও অন্য তিন ব্রিটিশ-বাংলাদেশিকে তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিতে সরকারকে আদেশ দিয়েছেন আপিল আদালত। সরকার বলছে, এই ৩ জনও সিরিয়ায় আইসিস এর সাথে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। এদের দুই জন মহিলা এবং একজন পুরুষ।
ব্রিটেনে জন্মগ্রহণ করা দুই ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মহিলাকে আদালতের দলিলে ‘সি-থ্রি’ এবং ‘সি-ফোর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর ‘সি-সেভেন’ নামে পুরুষ ব্যক্তির জন্ম বাংলাদেশে। কিন্তু জন্মগতভাবে তিনি ব্রিটিশ। দুই মহিলার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হয় ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে। পুরুষ ব্যক্তির বাতিল হয় ২০২০ সালের মার্চ মাসে।
৩ জনেরই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল হয় জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হিসাবে যুক্তি দেখিয়ে। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সময়ে এই ৩ জনেরই বয়স ছিল ২১ বছরের বেশী। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের বিরুদ্ধে ৩ জনই আপিল করেন স্পেশাল ইমিগ্রেশন আপিলস কমিশনে। এটি হচ্ছে বিশেষ একটি ট্রাইব্যুনাল, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে যাদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়, তাদের আবেদন শুনানি হয়।
মিস্টার জাস্টিস চেম্বারলেইন তাঁর রায়ে বলেন, যে সময়টাতে তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করেন হোম সেক্রেটারি, তখন এদের কেউ বাংলাদেশ কিংবা অন্য কোন দেশের নাগরিক ছিলেন না, ব্রিটেন ছাড়া। ১৮ মার্চ এই রায় ঘোষণার পর এই তিন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তাদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরে পাবেন বলেই ধারনা করা হচ্ছে।
সরকার আদালতের এই রায় বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু আপাতত ঝুলে থাকলেন সাবেক আইসিস বধূ শামিমা বেগম। কারণ শামিমা বেগমের যখন ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল ২১ এর কম ।