সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় হযরত শাহ আরেফিন (রহ.) আস্তানার পাশে মহুয়া আক্তার স্বর্ণালী (৩০) নামের তৃতীয় লিঙ্গের এক নেত্রীর গলায় রশি পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২০ মার্চ) রাতে তাহিরপুর উপজেলায় এই ঘটনাটি ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত স্বর্ণালী তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত হাজি আলী আহমদের সন্তান।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, স্বর্ণালী তৃতীয় লিঙ্গের হওয়ায় নিজ ইচ্ছায় পরিবার থেকে আলাদা হয়ে একই উপজেলার লাউড়েরগড় হযরত শাহ আরেফিন (রহ.) আস্তানার পাশে নিজস্ব বাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তুলেন। পরে ওই সংগঠনে সদস্য হতে চেয়েছিলেন স্থানীয় হারিছ উল্লাহসহ বেশ কয়েকজন। তবে ভুক্তভোগী স্বর্ণালী তাদের সংগঠনের সদস্য করেননি। এতে ক্ষুদ্ধ হয় হারিছ উল্লাহ গংরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (২০ মার্চ) রাতে হারিছ গংরা যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন করতে কোম্পানি কমান্ডারের কাছে সুপারিশ করতে স্বর্ণালীকে বলেন। এতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এসময় ১১ থেকে ১৪ জন রেগে যায় স্বর্ণালীর ওপর। মারপিটের পাশাপাশি তার গলায় রশি বেঁধে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে দূরে নিয়ে ফেলে দেন। পরে সেখানে থাকা স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। সুনামগঞ্জে সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।
এ ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য (মেম্বার) মোস্তফা মিয়া বলেন, মনির হোসেন, হারিছ উল্লাহ, জমাতুল, বিল্লাল, ইকবালসহ আরও কয়েকজন স্বর্ণালীকে মারধর করেন। তাকে মারধর করার পর আমরা সবাই বসে চিকিৎসার জন্য বলি এবং পরে সালিশে বিষয়টি দেখার জন্য উভয় পক্ষকে বলেছি।