বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে উন্নতির উদাহরণ বলে মনে করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সামনে বিকাশ ও পরিবর্তনের উদাহরণ। আর এ উন্নয়নে ভারত সহযাত্রী।
শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানির ওড়াকান্দিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, ঠাকুরনগর থেকে ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত একই রকম আস্থা, ভরসা ও অনুভব রয়েছে।আপনাদের জাতীয় অনুষ্ঠানে আপনাদের জন্য ভারতের ১৩০ কোটি জনগণের পক্ষ থেকে ভালোবাসা নিয়ে এসেছি। আপনাদের সবাইকে জাতীয় দিবসের অভিনন্দন।
তিনি আরও বলেন, এখানে আসার আগে আমি বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে গিয়েছিলাম। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব ও তার উপর বাংলাদেশিদের বিশ্বাস একটি উদাহরণস্বরুপ। বাংলাদেশ-ভারত বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায় এমন মন্তব্য করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের লক্ষ্য শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।
এর আগে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রাণপুরুষ হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা অর্চনা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। পরে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন তিনি।
মোদি বলেন, ‘ভারতে উৎপাদিত করোনাভাইরাসের টিকা যাতে বাংলাদেশে পৌঁছায়, তা ভারত নিজের কর্তব্য বলে মনে করেছে। করোনায় ভারত-বাংলাদেশ তাদের নিজেদের সামর্থ্যকে বাস্তবায়িত করে দেখিয়েছে।’
বক্তব্যে হরিচাঁদ ঠাকুরের বন্দনা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সারা বিশ্ব যে মানবতা ও মূল্যবোধের স্বপ্ন দেখে, হরিচাঁদ ঠাকুর সে জন্য তাঁর নিজের জীবন ত্যাগ করেছেন। নারীশিক্ষায় হরিচাঁদ ঠাকুরের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আজ নারীশক্তিতে পুরো বিশ্বে এগিয়ে যেতে দেখছি। উনি (হরিচাঁদ) তা আগেই দেখেছেন। আজ যেভাবে ভারত-বাংলাদেশ সরকার দুই দেশের সম্পর্ক মজবুত করেছে, সাংস্কৃতিকভাবে একই কাজ ঠাকুরবাড়ি ও হরিচাঁদ ঠাকুর বহু দশক ধরে করে আসছে।’
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গতকাল বাংলাদেশে আসা নরেন্দ্র মোদি শনিবার সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামের যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে পূজা-প্রার্থনা করেন। এরপর যান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। সেখানে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এরপর বঙ্গবন্ধু ভবনের পাশে একটি বকুল গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। এরপর চলে যান কাশিয়ানির ওড়াকান্দিতে।
দুপুরে ঢাকায় ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করবেন মোদি। সবশেষে বঙ্গভবনে যাবেন নরেন্দ্র মোদি। সন্ধ্যায় সেখানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে ঢাকা ছেড়ে যাবেন ভারতের সরকারপ্রধান।