করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দ্বিতীয় দিনটি মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) চলছে একেবারে ঢিলেঢালাভাবে। গণপরিবহন না থাকলেও সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিকশা। রাইড শেয়ারিং অ্যাপ বন্ধ থাকলেও খ্যাপে যাত্রী পরিবহন করছেন মোটরসাইকেল চালকরা।
লকডাউন না কঠোর বিধি-নিষেধ? নগরীর এমন দৃশ্যকে কী বলা যায়? শঙ্কায় পড়তে পারেন যে কেউ। অন্য স্বাভাবিক দিনের মতোই সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অবাধে চলাচল করেছে সব ধরণের যানবাহন। বন্ধ কেবল গণপরিবহন।
এদিকে অভিযান-জরিমানা আদায় করেও বন্ধ করা যাচ্ছে না অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে মানুষের চলাফেরা। এজন্য তাদের অজুহাতেরও শেষ নেই।
একজন পথচারী বলেন, গতকালকে বাসায় যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারিনি। আজ দেখছি গাড়ি চলছে তাই আমি রওনা দিয়েছি। মাস্ক পরেননি কেন? এমন প্রশ্নের জাবাবে ওই পথচারী বলেন, মাস্ক আনতে আমার মনে ছিল না, এটা আমার গাফিলতি।
স্বাস্থ্যবিধি মানতেও যেন রাজ্যের অনীহা। এক রিকশাওয়ালা বলেন, আমার মাস্ক আমি ভুল করে এক জায়গায় ফেলে এসেছি। এক চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলাম সেখানে ফেলে এসেছি।
রাইড শেয়ারিং বন্ধ থাকলেও মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন চলছে অবাধে। এক্ষেত্রে অ্যাপ নয় চলছে খ্যাপে। এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, এখন তো আর পাঠাও চালাইতে পারি না, গাড়ির কাজ করে তাই বাসায় চলে যাচ্ছি।
পুলিশ বলছে, রাইড শেয়ারিং এর যেটা বিষয় যে সরকার থেকে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। কিন্তু আমরা এখন যেটা দেখছি সেটা হচ্ছে বেশিরভাগ অফিসগামী মোটরসাইকেল আর অফিস যাত্রী। অফিসের সময়ে আমরা মোটরসাইকেলে দুইজন মানবিক কারণে ছাড় দিচ্ছি কিন্তু অফিস টাইম শেষ হলে আমরা কঠোর হবো।
সরকারি নির্দেশনা মানাতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতাও ছিল নগরীতে। বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি জরিমানা করতে দেখা যায় তাদের।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, যারা কোনো কারণ ছাড়াই ঘোরাফেরা করছে। আবার মাস্ক পকেটে আছে কিন্তু পরছে না এবং যাদের উপযুক্ত কারণ না পাচ্ছি তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় নিইয়ে আসছি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানার ব্যবস্থা করছি।
এক কথায় করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিনে গাছাড়া ভাব দেখা গেছে সবখানেই। সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।