মহামারি করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত ভারত। দ্বিতীয়বারের জন্য এক লক্ষ ছাড়িয়ে গেল দেশের দৈনিক সংক্রমণ। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে সোমবার প্রথমবারের জন্য আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছিল ১ লক্ষের গণ্ডি। মঙ্গলবার তা একটু কমেছিল।
বুধবার তা বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৭৩৬। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান মহামারীতে দেশটিতে দৈনিক সংক্রমণের এটিই সবচেয়ে বড় পরিসংখ্যান।
দেশে একদিনে আক্রান্তের নিরিখে এই সংখ্যা যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এই আক্রান্ত বৃদ্ধির জেরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা। করোনায় দিশেহারা ভারতে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎকেরা।
ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী পত্রিকা ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ এ খবর দিয়েছে।
এদিকে ওয়ার্ল্ডওমিটারের বুধবার সকালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৬৩১ জন।
এ নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশটিতে করোনার মোট সংক্রমণ প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ২০৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ লাখ ৮ হাজার ৩২৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ নিয়ে ২৫ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হল।
টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, ২৪ ঘণ্টায় ৬৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা গত ৪ মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে দিনে দিনে খারাপ হচ্ছে মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৫ হাজার ৪৬৯ জন। সে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি খারাপ হচ্ছে মুম্বাইয়ের অবস্থা। দৈনিক মৃত্যুও ওই রাজ্যে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে মৃত্যু হয়েছে ২৯৭ জনের। দেশের মোট সক্রিয় রোগীর প্রায় অর্ধেক শুধু মহারাষ্ট্রেই।
গত এক সপ্তাহে মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি কর্নাটক, ছত্তীসগঢ়, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলির পরিস্থিতিরও অবনতি হচ্ছে। এ গুলির মধ্যে সবথেকে খারাপ অবস্থা হয়েছে ছত্তীসগঢ়ে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৯২১ জন। করোনার প্রথম পর্বেও এত খারাপ পরিস্থিতি ছিল না ছত্তীসগড়ে।
পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশেও রোজ আক্রান্ত হচ্ছেন ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি। অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থান, হরিয়ানাতেও দৈনিক আক্রান্ত ২ হাজার ছাড়িয়েছে। তেলঙ্গানা, বিহার, ঝাড়খণ্ডেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।