কলোরাডোর একটি কোভিড ভ্যাকসিন সাইট হঠাৎ বন্ধ করে দেয়া হলো। অভিযোগ, জনসন অ্যান্ড জনসনের ভ্যাকসিন নেয়ার পর মানবদেহে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার জেরে তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কলোরাডোর ডিকস্ স্পোর্টিং ক্লাবে সেঞ্চুরা হেলথ -এর উদ্যোগে এই টিকাকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
জানা গেছে, জনসন অ্যান্ড জনসনের ডোজ নেয়ার পর ১১ জন ব্যক্তির দেহে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। এদের মধ্যে থেকে ২ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য।
সেঞ্চুরা হেলথ জানাচ্ছে, এক হাজার ৭০০ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ০.৬২ শতাংশের দেহে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, যা খুবই নগণ্য। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামনে আসার পর যে ৬৪০ জনকে এদিন ভ্যাকসিন দেয়া সম্ভব হয়নি, তাদের ১১ এপ্রিল ভ্যাকসিন দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ভ্যাকসিন নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
ভ্যাকসিন নেয়ার পর অনেকের দেহেই কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায় । তাই ডোজ নেয়ার পর প্রথম ১৫ মিনিট ভ্যাকসিন গ্রহণকারী সেই ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। যদি কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে তাহলে এই সময়ের মধ্যেই নজরে আসবে।
মার্চের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত কলোরাডোতে জনসন অ্যান্ড জনসনের মোট ৮০ হাজার ভ্যাকসিনের ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১.৯ মিলিয়ন মানুষ ভ্যাকসিনের একটি করে ডোজ পেয়েছেন এবং প্রায় ১ কোটি ১৪ লক্ষ ৫ হাজার ৩৯ জনের দেহে পুরোপুরিভাবে ভ্যাকসিন প্রদান করা সম্ভব হয়েছে।
মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি-র মতে ভ্যাকসিন নেয়ার পর বমিভাব, জ্বর, ক্লান্তি এগুলি সবই সাধারণ লক্ষ্মণ। ডোজ নেয়ার এক কি দুই দিনের মধ্যেই এই লক্ষ্মণগুলো দেখা যেতে পারে । আবার দিন কয়েকের মধ্যে সেই সমস্যাও চলে যায়।
ক্লিনিক্ল্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, জনসন অ্যান্ড জনসনের ভ্যাকসিন কোভিড-১৯ প্রতিহত করতে মানবদেহে ৬৬ শতাংশ কাজ করে এবং সংকটজনক মুহূর্তে এর কার্যকারিতা ৮৫ শতাংশ।