মহামারি করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র গত পহেলা এপ্রিল থেকে ১৫ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণায় জনমানবশূন্য হয়ে আছে গোটা সৈকত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্ধ রয়েছে হোটেল-মোটেল, রেস্টহাউস-গেস্টহাউসসহ খাবার হোটেল-রেঁস্তোরা এবং পর্যটক কেন্দ্রিক বেচাকানার দোকানগুলো। প্রায় ৩০০ ক্ষুদ্র দোকানি ইতোমধ্যে বেকার হয়ে গেছে। চা, কফি, ডাব, পানসিগারেট, ফুচকা, কাঁকড়া-মাছ ফ্রাই, চটপটি, চকোলেট-আঁচারসহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর অধিকাংশ দোকানগুলো বন্ধ থাকছে। গোসল করার কাপড় সামগ্রী বিক্রির দোকান পর্যন্ত বেচাকেনা শুন্য হয়ে আছে। কেউ কেউ খুলে রাখলেও নেই কোনও ক্রেতা।
প্রায় দুই’শ বাণিজ্যিক ফটোগ্রাফার, বীচের চেয়ার-ছাতা বিক্রেতা প্রায় ৫০ জন। ট্যুরিস্ট বোট ব্যবসায়ী রয়েছেন প্রায় ২০ জন। এদের কর্মচারীসহ প্রায় ১০০ জন বেকার রয়েছেন। বেকার হয়ে গেছে পর্যটকদের টানা অটো-ভ্যান চালক। একই দশায় ভাড়াটে মোটরসাইকেল চালকরা। তবে এদের কিছু আয়ের সুযোগ রয়েছে। শুধু জেলেসহ মাছ ধরার পেশা সংশ্লিষ্টরা বেকার নেই। তবে ক্রেতা কমে তাদের পেশাও ক্ষতির কবলে পড়েছেন। এক কথায় পর্যটন কেন্দ্রিক কুয়াকাটা এখন স্তব্ধ হয়ে গেছে। অর্থনৈতিক চাকা অচল হয়ে গেছে।
খাবার হোটেলগুলো বন্ধ থাকায় বেকায়দায় রয়েছে কুয়াকাটায় ভাসমান মানসিক ভারসাম্যহীনরা। ‘কুয়াকাটা জন্মভূমি’ নামের সংগঠনের সদস্যরা এসব ভারসাম্যহীন প্রায় ২০ জন নারী-পুরুষকে নিজস্ব এবং সংগৃহীত তহবিল থেকে খাবার পরিবেশন করে আসছেন। প্রথমবারে করোনার ধকলে সময়ে এ সংগঠন এসব মানুষের খাবার সরবরাহ করে আসছিলো।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, তাদের সংগঠন আওতাধীন ৬৭টিসহ প্রায় ১২০টি হোটেল-মোটেল রিসোর্ট, গেস্টহাউস, রেস্টহাউস রয়েছে কুয়াকাটায়। যেখানে গড়ে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০-৬০ জন কর্মচারী রয়েছে। এখন এদের কাজবিহীন অবস্থায়, কোনও উপার্জন না থাকায় কর্মচারীদেরও বেতন-ভাতা দেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘ সৈকতজুড়ে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। কোনও কোলাহল নেই। যতদূর চোখ যায়, শুধু বেলাভূমে রোদের আলো ঝিলমিল করছে। জনমানবহীন, নীরবতা বিরাজ করছে কুয়াকাটার দীর্ঘ সৈকত। পরিচ্ছন্ন বেলাভূমিও যেন আরও সতেজ হয়ে উঠছে। লাল, ধূসর কাঁকড়ারা ভাঁটিতে বেলাভূমে আঁকছে আল্পনা।