প্যান্ট চুরি করে অবশেষে জরিমানা দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান ওরফে জুয়েল রানা।
গত শনিবার (১০ এপ্রিল) তানোরের গোল্লাপাড়া বাজারের প্রদিপ সুপার মার্কেটে এ চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পরের দিন রোববার (১১ এপ্রিল) ঘটনাটি প্রকাশ পায়।
অভিযোগ উঠেছে, জুয়েল রানা ওই মার্কেটের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী প্রসেনজিতের দোকান থেকে প্যান্টটি চুরি করেন। চুরির ১ দিন পরে সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে ধরা পরে বিষয়টি।
জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা বলেন, ‘আমি প্যান্টটা চুরি করিনি। মজা করেছি। সন্ধ্যায় মজা করে পরের দিন সকালে ওই প্যান্ট পরে এসে টাকা দিয়ে দিয়েছি।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘একজন অপরিচিত মানুষ আমাকে মার্কেটের পেছনে পানের সাথে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। এরপর থেকে আমি আর কথা বলতে পারিনি। নেশা নেশা লাগছিল। বিষয়টি অনেকেই জেনে যাবে তাই, কথা না বলে প্যান্টটা নিয়ে যাই।’
সিসিটিভির ফুটেজে আপনাকে তো অন্য মানুষের মতই স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল এবং স্বাভাবিকভাবেই হেটে প্যান্ট সেল্ফ থেকে খুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন কেমন করে? এমন প্রশ্ন করা হলে জবাবে জুয়েল রানা কোনও উত্তর দেননি।
এ ঘটনায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ী প্রসেনজিৎ বলেন, ‘গত শনিবার সন্ধ্যায় চুরির এই ঘটনা ঘটেছে। আমি দোকানে ছিলাম না। আমার ছোট ভাই দ্বীপ ছিল। আমি প্যান্টটা দেখতে না পেয়ে দ্বীপকে জিজ্ঞাসা করি। সেও বলতে পারে না। এরপরে দোকানের অন্য সব জায়গায় খুঁজে দেখে সেখানেও না পেয়ে পাশের একটি দোকানে সিটিটিভি ক্যামেরা লাগানো আছে, সেখানে যাই। এরপর চুরির ঘটনাটি দেখতে পাই। তখন জুয়েল রানাকে শনাক্ত করি। পরে তাকে ফোনে কল দেই।
সেই কল রিসিভ করে জুয়েল রানা প্রসেনজিৎকে বলেন, ‘ভাই আমি বিষয়টি আপনাকে বলব বলব মনে করছিলাম। কিন্তু আপনিই ফোন দিলেন।’
এরপরে জুয়েল রানা মার্কেটে আসে। এ সময় গোল্লাপাড়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সারওয়ার ও সম্পাদক পাপুল সরকারের উপস্থিতিতে ৩২০ টাকা জরিমানা দেন। পরে ঘটনাটিকে অনাকাঙ্খিত উল্লেখ করে তাদের নিকট ক্ষমাও চান তিনি।’
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম মেরাজ বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে কোনো ব্যবসায়ী বা বাজার কমিটি কোনো অভিযোগ করলে আলোচনা সাপেক্ষে জুয়েলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’