নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে হাওর থেকে বোরো ধান নিয়ে ফেরার সময় যানজটে ট্রলি আটকে যাওয়ায় আরেকটি গাড়ির চালককে মারধর করেছেন ট্রলিচালক। এ নিয়ে দুই মহল্লার সংঘর্ষে নারীসহ ১৭ জন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন- বাঘাপাড়ার সোহেল মিয়া, এরশাদ মিয়া, রেহান মিয়া, সুলতান মিয়া, শাহীন মিয়া, শামীম মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, হাকিম মিয়া , আবের মা, আয়েশা আক্তার, দারগ আলী, বাবুল মিয়া, কাজল মিয়া। পশ্চিমপাড়ার অপু মিয়া, আনু মিয়া, মেহেদী হাসান ইদ্রিস, মাজু মিয়া।
সোমবার দুপুরে ওই উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের বাঘাপাড়া ও পশ্চিমপাড়া মহল্লার মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহতদের মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট মো. শহীদউল্লাহ জানান, কয়েকজন মাথায় ও শরীরে আঘাত পেয়েছেন। তাদের এক্স-রে করতে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভর্তি করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় তেতুলিয়া পশ্চিমপাড়ার অপু মিয়া ট্রলিতে করে হাওর থেকে বোরো ধান নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বাঘাপাড়ায় তার ট্রলি যানজটে আটকে যায়। ওই সময় মেজাজ হারিয়ে আরেক ট্রলিচালক সুমন মিয়াকে মারধর করেন তিনি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে মীমাংসা শেষে সবাই বাড়ি চলে যায়।
আরো জানা গেছে, ওই ঘটনার জেরে সোমবার সকালে অপু মিয়া তার লোকজন ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাঘাপাড়ায় বাড়িঘর ও ধানের আড়তে হামলা চালায়। ওই সময় রামদা ও ইট-পাটকেলের আঘাতে ১৩ জন আহত ও কয়েকটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বাঘাপাড়ার মালেক মিয়া, হাসেম মিয়াসহ কয়েকজন পাল্টা হামলা চালায়। এতে আরো চারজন আহত ও কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি আবদুল আহাদ খান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।