শনিবার (২৪ এপ্রিল) পাঞ্জাবের অমৃতসরের একটি হাসপাতালে অক্সিজেন সংকটে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে লোহা ও স্টিলের কারখানাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে পাঞ্জাবের রাজ্য সরকার।
এদিকে, অক্সিজেনের অভাবে কাতরাচ্ছেন দিল্লির করোনা রোগীরা। দিল্লির হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন ও আইসিইউ শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছেন রোগীরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা চেয়ে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
সংকট মেটাতে সিঙ্গাপুর থেকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি উড়োজাহাজে ৪টি অক্সিজেন ট্যাংকার আনা হয়েছে। হংকং থেকে দিল্লিতে আনা হয়েছে ৮০০টি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও অক্সিজেন কনসেনট্রেটর আনা হবে। এছাড়া সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও সৌদি আরব।
বিভিন্ন রাজ্যে অক্সিজেন সরবরাহে চলছে বিশেষ ট্রেন। এখন পর্যন্ত দেড়শ টন অক্সিজেন পরিবহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতে রেমডেসিভির ওষুধের সংকটের কারণে বহু করোনা রোগীর মৃত্যু হচ্ছে।
ভারতে আবারো করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া টানা চতুর্থ দিনের মতো বিশ্বে সবচেয়ে বেশি শনাক্তের রেকর্ড করেছে দেশটি। শনিবার দেশটিতে শনাক্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ করোনা রোগী। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করেছে কুয়েত ও ইরান।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আগে গেল নভেম্বরেই কেন্দ্রীয় সরকারকে অক্সিজেন উৎপাদন, আইসিইউ ও হাসপাতালের শয্যা এবং ভেন্টিলেটরের সংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলো পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডিং কমিটি। সেইসঙ্গে করোনা ঠেকাতে স্বাস্থ্যখাতে অর্থ বরাদ্দের পরামর্শও দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এসব পরামর্শ আমলে না নেয়াকে কেন্দ্রীয় সরকারের গাফিলতি হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।