শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে প্রেমিকাকে তাবিজ দিয়ে বশ করা নিয়ে তুলকালাম ঘটেছে। ভুক্তভোগীর শারীরিক অসুস্থতা, পাল্টাপাল্টি হামলা-ভাঙচুর, সালিশ-বিচার, থানা-পুলিশসহ নানা কাণ্ড ঘটছে ওই উপজেলার বুরুঙ্গা গ্রামে।
চার মাস আগে ওই গ্রামের এক কিশোরীর ভালোবাসা পেতে তাকে তাবিজ দিয়ে বশ করা নিয়েই ঘটনার শুরু। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ইমামের কাছ থেকে তাবিজ এনে ওই কিশোরীকে বশ করার চেষ্টা করে তার এক আত্মীয়। এতে ওই কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে এ ঘটনা জানাজানি হয়। পরে এ নিয়ে ছেলে ও মেয়ে পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। এমনকি এ সমস্যা গড়ায় গ্রাম্য সালিশ থেকে থানা-পুলিশ পর্যন্ত। শনিবার দুই পক্ষ পৃথক অভিযোগ করেছে।
রোববার বিকেলে নালিতাবাড়ী থানার ওসি বাছির আহমেদ বাদল বলেন, ঘটনাটির তদন্ত করা হচ্ছে। আমি ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়িতে আছি। সম্পূর্ণ তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চার মাস আগে বুরুঙ্গা গ্রামের ওই কিশোরীর ফুফাতো ভাই জামাল তাকে প্রেমের জালে ফাঁসাতে পার্শ্ববর্তী আন্ধারুপাড়ার শান্তির মোড় মসজিদের ইমাম সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ৫শ’ টাকায় চুক্তি করে। পরবর্তীতে ওই কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে পরিবার। গ্রাম্য এক কবিরাজের শরণাপন্ন হলে তাবিজের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে পুরো ঘটনা জেনে বারোমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাদ মিয়ার কাছে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর অভিভাবক।
পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে শনিবার দুপুরে বারোমারী বাজারে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সালিশ বসে। সালিশে কিশোর জামাল ও ইমাম সাইফুল তাবিজের কথা স্বীকার করেন। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের সম্মান রক্ষায় পাল্টা তাবিজের মাধ্যমে তাকে সুস্থ করার লিখিত অঙ্গীকার করেন ইমাম। তাকে এক সপ্তাহ সময় দিয়ে সালিশ সমাপ্ত ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান।
এর কিছুক্ষণ পর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ইমাম সাইফুল ইসলাম জানান, তাকে গোপন কক্ষে নিয়ে চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে। মুহূর্তেই চেয়ারম্যানের প্রতিপক্ষ বিষয়টি নিয়ে বারোমারী বাজারে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। সালিশে উপস্থিত লোকদের বাড়িঘরে হামলা করে। হামলার শিকার বাছির উদ্দিন ওই রাতেই ইমাম সাইফুল ইসলামের সমর্থকদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ চারজনের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে প্রতিপক্ষ।
কিশোর জামাল জানায়, তার কথামতো ইমাম সাইফুল ৫শ’ টাকার বিনিময়ে তাবিজ বানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তাবিজ উল্টো রি-অ্যাকশন করায় ইমাম পুনরায় তাবিজ দিয়ে ঠিক করার কথা দিয়েছেন।
ইমাম সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি কোনো তাবিজ করিনি। মিথ্যা অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যান আমাকে গোপন কক্ষে নিয়ে গিয়ে গলা টিপে ধরে চড়-থাপ্পাড় দিয়েছেন।
তিনি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চড়-থাপ্পড়ের অভিযোগ এনে ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেন। এরপর ইমামের নিজের মুখের তাবিজ করার স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও সালিশ বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন ফেসবুকে আপলোড করেন।
মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার ও সালিশকারী বাছির উদ্দিন জানান, সবার সামনে ইমামের দোষ প্রমাণিত হয়েছে, তিনি স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন। কিন্তু বেরিয়ে গিয়ে পাল্টা অভিযোগ তুলে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালান। পরে তার সমর্থকরা বাড়িঘরে হামলা চালায়।
বারোমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাদ মিয়া বলেন, চড়-থাপ্পড়রের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ইমাম সাইফুল ইসলাম নিজের অপকর্ম আড়াল করতেই পাল্টা অভিযোগ তুলছে। অথচ সালিশে দোষ স্বীকার করে গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে সে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছে।