বরগুনায় কলা গাছ লাগানো নিয়ে চাচা-ভাতিজার বাকবিতণ্ডার সময় ভাতিজার শাবলের আঘাতে আহত চাচা মৃত্যুবরণ করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের আপন ভাই ও ভাইয়ের ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ৮টার দিকে তাদের আটক করা হয়। রোববার আদালতের মাধ্যমে ভাতিজা কে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং ছোট ভাই সোহরাফ হোসেন কে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
নিহতের নাম সুলতান আহমেদ, বয়স ৬০ বছর। সুলতান বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুলিশাখালী গ্রামের মরহুম আদম আলীর ছেলে। শুক্রবার দুপুরে গুলিশাখালী এলাকায় তাকে শাবল দিয়ে আঘাত করা হয়। ঘটনার পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপতালে নেয়।
সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালে পাঠানো হয়। সেখানে শনিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ ইলিয়াস হোসেন স্বপন জানান, শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশের জমিতে কলা গাছ রোপণ করতে যান সুলতান। ওই জমি নিজেদের দাবি করে বাধা দেন তার ছোট সোহরাফ হোসেনের ছেলে ফয়সাল হোসেন মিরাজ। তর্কের এক পর্যায়ে সোহরাব হোসেন ভাতিজা মিরাজকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। তখন মিরাজও তার হাতে থাকা শাবল দিয়ে সুলতানকে পিটিয়ে আহত করেন।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। শনিবার ভোর চারটার দিকে সেখানে মৃত্যু হয় সুলতানের।
বরগুনা সদর থানার ওসি কে এম তরিকুল ইসলাম জানান, সুলতান আহমেদকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে নিহতের বড় মেয়ে জেসমিন বাদী হয়ে সোহরাফ হোসেনের দুই ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এদের মধ্যে রিয়াজকে আটক করা হয়েছে এবং মিরাজ পলাতক রয়েছেন। আটক রিয়াজকে রোববার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক মিরাজকে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে নিহতের ভাই নিরপরাধ হওয়ায় তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।