দুই কেজি চালের জন্য জীবন যুদ্ধে নেমেছেন সন্ধ্যা রানী সরকার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছুটে বেড়ান যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন বাজারে। প্রতিদিনের চাহিদা জীবিকার জন্য ২ কেজি চাল সহ অন্যান্য দ্রব্য সামগ্রী।
সন্ধ্যা রাণী জানান, কেশবপুর উপজেলার কন্দবপুর এলাকার মৃত কৃষ্ণ পদ সরকারের মেয়ে তিনি। ১৯ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল বাগেরহাট জেলার তপন সরকারের সঙ্গে। ভালোই চলছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। বিবাহের ৬ মাস পর সন্ধ্যার গর্ভে আসে এক সন্তান। তার ঠিক তিনমাস পর স্বামী আরেকজনের স্ত্রীকে নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। তারপর থেকে আর কখনও ফিরে আসেনি।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন সন্ধ্যা। এদিকে তার গরিব পিতার সংসারে আরো ২ ভাই ও দুই বোনকে নিয়ে কোন রকমে টানাপড়েনের মধ্যে চলছিল সন্ধ্যার জীবন। এরই মধ্যে সন্ধ্যার গর্ভে থাকা কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তবে অনেক জায়গা থেকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব আসে সন্ধ্যার। সন্ধ্যা বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেমে পড়েন জীবনযুদ্ধে। কাছে থাকা কিছু টাকা ও মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে কিনে আনেন কাঠের তৈরি চামুক, কুন্তি সহ বিভিন্ন ধরনের ফুলদানি ও কলম দানি সহ হরেক রকমের জিনিস। চুকনগর বাজার সাতক্ষীরা সহ কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে জীবন জীবিকা চালাতে থাকেন। এরই মধ্যে মেয়ে বড় হয়ে যায়। বিয়ে দেন খুলনা জেলার এক ছেলের সাথে। রেখে দেন নিজের বাবার বাড়ি কন্দবপুরে। জামাই কেশবপুর বাজারের এক দোকানে প্রতিদিন ২০০ টাকা বেতনে চাকরি করেন। জামাই মেয়ের সংসার কোন রকমে চললেও নিজেই ছুটছেন ২ কেজি চালের জন্য বাজারে বাজারে। করোনা মহামারিতে কঠিন লকডাউনের মধ্যেও ভ্রাম্যমাণ দোকান খুলেছেন সন্ধ্যা। সরকারি অনুদান বলতে চলতি বছরে স্বামীপরিত্যক্ত একটি কার্ড হয়েছে। এখনও পাননি সেই ভাতা। এমনি ভাবেই নিজের জীবনের কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন সন্ধ্যা। জীবনের চাহিদা প্রতিদিন ২ কেজি চাল সহ প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। জীবন জীবিকার জন্য সমাজের বিত্তবান দানশীল ব্যক্তিসহ দাতা সংস্থাদের প্রতি সহযেগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন সন্ধ্যা। পরবর্তীতে চুকনগর বাজারের ব্যবসায়ী সঞ্জয় কুমার বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যা পেটের জ¦ালায় রোদের ভিতর বসে দোকান দেয়। তাই সমাজের বিত্তবান দানশীল ব্যক্তি বা কোন দাতা সংস্থা তাকে একটু ভালোভাবে ব্যবসা করার জন্য সহযোগিতা করেন তার জন্য অনুরোধ জানান।