শেরপুর প্রতিনিধি; শেরপুরে মৌসুমী ফল তরমুজের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও কেজি দরে বিক্রি বন্ধ করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ অভিযানের পর থেকে জেলা শহরের বিভিন্ন হাট-বাজারে তরমুজ কেজি দরে বিক্রি বন্ধ হয়ে পিস হিসেবে বিক্রি শুরু হয়। এতে ক্রেতাদের মাঝে সাময়িক স্বস্তি ফিরে এসেছে।

২৮ এপ্রিল বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনার কলি মাহবুব স্বয়ং শহরের বিভিন্ন তরমুজের দোকান পরিদর্শন করেন এবং তরমুজের চালান পরীক্ষা করে কেজি দর বাদ দিয়ে পিস হিসেবে বিক্রির নির্দেশনা দেন। ওইসময় তার সাথে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়ালীউল হাসানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে দুপুরে শহরের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান মাহমুদ। আর একইদিন সকালে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম। ওইসময় তারা বিভিন্ন জায়গায় তরমুজের মোকাম ও দোকানগুলোতে তরমুজ পাইকারী ক্রয়ের রশিদ পরীক্ষা করেন এবং ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্যে তরমুজ বিক্রির নির্দেশনা দেন। পরে ব্যবসায়ীরা পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি শুরু করেন। অভিযানকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, শেরপুরের বিভিন্ন হাট-বাজারে তরমুজ উঠার পর কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পাইকারী পিস হিসেবে কিনে এনে সিন্ডিকেট করে তা কেজি দরে বিক্রি করছিলেন। মৌসুমের শুরুতে এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা ২৫/৩০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করলেও পবিত্র মাহে রমজান ও তীব্র দাবদাহ শুরু হওয়ায় এক লাফে বেড়ে সেই তরমুজের দাম দাঁড়ায় ৬০/৭০ টাকা কেজি দরে। এতে ক্রেতারা বেশি দামে তরমুজ কিনতে বাধ্য হচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তরফ থেকে বিষয়টি তদারকি করতে শহরের খোয়াড়পাড় শাপলাচত্ত্বর মোড়, নতুন বাস টার্মিনাল ও রঘুনাথবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান মাহমুদ বলেন, তরমুজ ব্যবসায়ীরা মোকাম থেকে প্রকারভেদে পিস হিসেবে ক্রয় করলেও অতি মুনাফার লোভে ক্রেতাদের কাছে বেশি দামে কেজি দরে বিক্রি করে আসছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এলে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবের নির্দেশনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসময় ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে এবং যৌক্তিক মুনাফা রেখে ন্যায্য দামে পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাগত থাকবে বলেও জানান তিনি।
আর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম জানান, কেজি দরে তরমুজ বিক্রির খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে তরমুজ ক্রয়ের চালানপত্র দেখা হয়েছে। সেইসাথে তরমুজ ব্যবসায়ীদের পিস হিসেবে ও স্বল্প লাভে তরমুজ বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।