মাদারীপুরের রাজৈর পৌরসভার মেয়র নাজমা রশীদ ও সচিব মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ১৯ এপ্রিল পৌরসভার ৯ জন কাউন্সিলরের সাক্ষরিত অভিযোগ গেছে জেলা প্রশাসকের কাছে।
অভিযোগকারীরা হলেন- পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ সাগর আহম্মেদ উজির, ২ নম্বর ওয়ার্ডের আজিজুর রহমান হাওলাদার, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহসিন ফকির, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আহম্মদ কবিরাজ, ৭ নম্বর ওয়র্ডের বাহাউদ্দিন মোল্লা, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নূরে আলম, সংরক্ষিত কাউন্সিলর লাইজু আক্তার ও কোহিনুর বেগম।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, রাজৈর পৌরসভার রাজস্ব আদায়ের প্রধান উৎস টেকেরহাট বাজার। প্রতি বছর এ বাজার এক কোটি টাকায় ইজারা দেয়া হয়। কিন্তু এ বছর বাজারটি ইজারা না দিয়ে পৌর মেয়র নাজমা রশীদ ও সচিব মাসুদ আলম একটি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সিন্ডিকেট করেন। তারা ইজারাদারদের শিডিউল না কিনে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করেন। এই টাকার মধ্যে ৮০ লাখ টাকা পৌর তহবিলে জমা দেবেন, বাকি ২৫ লাখ টাকা মেয়র, সচিব ও মেয়রের ভাই আল-আমিন মোল্লা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী হাট-বাজারের ইজারা আদায়ের কমিটিতে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরকে সদস্য রাখা হয়। অথচ টেকেরহাট বাজারের ইজারা কমিটিতে সচিবের পরামর্শে নিজের পছন্দের অন্য ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে সদস্য করেছেন মেয়র। এতে সাপ্তাহিক বা মাসিক ইজারার টাকা আত্মসাতের সুযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, মেয়র ও সচিব সিন্ডিকেট করে পৌরসভার আয় ব্যয়ে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ শুরু করেছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রাপ্ত বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী, ভাতা ভোগীদের বইগুলো সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের না জানিয়ে মেয়র নিজের ইচ্ছায় নিয়ন্ত্রণ করছেন।
রাজৈর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ সাগর আহম্মেদ উজির বলেন, মেয়র ও সচিব যে অন্যায় ও দুর্নীতি করেছেন আমরা তার বিচার চাই। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্ত করে হাটের ইজারা যথাযথ প্রক্রিয়ায় নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানাই।
অভিযুক্ত মেয়র নাজমা রশীদ বলেন, টেকেরহাট বাজারের ইজারার ক্ষেত্রে সরকারি মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে ইজারার দুটি শিডিউল জমা হয়েছে। তাই পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি রেজুলেশন করে জেলা প্রশাসকের কাছে সিদ্ধান্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আর খাস আদায়ের বিষয় যে টাকার কথা বলা হচ্ছে সেটা ভুল। পৌরসভা থেকে কোনো হাটের খাস আদায় করা হয়নি। কাউন্সিলররা কী কারণে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন তা আমার জানা নেই।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন বলেন, রাজৈর পৌরসভার ৯ জন কাউন্সিলরের স্বাক্ষর করা একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তদন্তে কাউন্সিলরদের আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।