বগুড়ার শাজাহানপুর থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আবারো অভিযোগ উঠেছে। এবারের অভিযোগ অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে থানায় ভুক্তভোগীর মামলা না নেয়ার। এর আগে তার বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে থানায় ডেকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে।
থানায় মামলা না নেয়ার অভিযোগে রোববার দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন শাজাহানপুর উপজেলার বাসিন্দা ভুক্তভোগী মাসুদ রানা। তিনি উপজেলার শাহানগর বিলাতপাড়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৪ মে রাত ৯টার দিকে তার ছোট ভাই সজীব উপজেলার কামারপাড়া বাজার থেকে বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। তারা বিহিগ্রাম এলাকায় পৌঁছামাত্রই পূর্ব শক্রতার জেরে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা সজিবকে পাইপ, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। ওই সময় সজিবের বন্ধু মোজাহেদ হোসেন ও রায়হান তাক উদ্ধারের চেষ্টা করলে তাদেরও মারধর করা হয়। এ হামলায় তার ভাই সজিবের চার থেকে পাঁচটি দাঁত ভেঙে যায়। সজিব বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল (কলেজ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, এ ঘটনার পর গত ৬ মে শাজাহানপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। কিন্তু থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ আমলে না নিয়ে উল্টো অভিযুক্তদের পক্ষ নেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের বিষয়ে ওসিকে বারবার বলা হলেও বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। বিভিন্ন কথা বলে ওসি তাদেরকে গ্রেফতার করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে পাঁচজন শনিবার রাতে থানায় ওসির কাছে যান। ওই সময় ওসি তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়েই থানা থেকে তাদেরকে চলে যেতে বলেন।
থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন থানায় মামলা না নেয়ায় রোববার সকালে মাসুদ রানা বাদী হয়ে জেলা বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, সুমন হোসেন, রকি, রিকো, রাব্বী, সাব্বির হোসেন, সাব্বির হোসেন, মুরাদ হোসেন, রনি হোসেন, রুবেল হোসেন, শান্ত। অভিযুক্ত সবাই শাজাহানপুর উপজেলার বাসিন্দা।
মাসুদ রানা বলেন, ওসি থানায় মামলা না নেয়ায় আদালতে মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, থানায় ওসি মামলা নেননি, ঘটনা এমন নয়। যে কেউ অভিযোগ করতে পারেন। তা তদন্ত করে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করতেও কিছুদিন সময় লাগে।
প্রসঙ্গত, বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় আব্দুল খালেক নামে এক ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠে ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ২৮ এপ্রিল ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক বাদী হয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।