করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের জনজীবন। দিনের পর দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতালেও ঠাঁই হচ্ছে না রোগীদের। সেই সঙ্গে রয়েছে অক্সিজেন সংকট। দেশটিতে দুই কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষ এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের। তবে এ সংখ্যা আরো কয়েকগুণ বেশি বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
এমন দুরবস্থায় অনেকে খুঁজছে সংক্রমণ থেকে বাঁচার উপায়। অনেকে এরইমধ্যে করোনার হাত থেকে বাঁচতে শরীরে গোবর মাখা শুরু করে দিয়েছে। অনেক ভারতীয় মনে করেন, শরীরে গোবর মাখলে করোনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। এছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে গরুকে পবিত্রতার চিহ্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে করোনা থেকে রক্ষায় গোবর কার্যকর নয় বলে সতর্ক করেছেন ভারতের চিকিৎসকেরা। তারা বলছেন, করোনা প্রতিরোধে গোবরের কার্যকারিতা নিয়ে কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি এতে অন্যান্য রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
একটি ওষুধ কম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপক গৌতম মনিলাল বরিষা জানান, গত বছর করোনা থেকে সুস্থ হতে এই পদ্ধতি কাজে দিয়েছিল তার। তিনি বলেন, আমরা তো দেখি, চিকিৎসকেরাও এখানে আসেন। তারা বিশ্বাস করেন, এই থেরাপি তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে তারা নির্ভয়ে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত হতে পারেন। শরীরে গোবর মেখেই গত বছর তিনি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন এই ব্যক্তি।
পশ্চিম ভারতের রাজ্য গুজরাটের কিছু লোকের বিশ্বাস, গরুর গো-মূত্র ও গোবর দিয়ে এক সপ্তাহ শরীর ঢেকে রাখলে শরীরে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়ানোর পাশাপাশি আরোগ্যও লাভ হয়।
হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী, গরুকে পৃথিবী ও জীবনে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রোগ বালাই থেকে মুক্তি ও প্রতিষেধক হিসেবে বহু শতাব্দী ধরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ঘর পবিত্র করার কাজে ও প্রার্থনা অনুষ্ঠানে গোবর ব্যবহার করে আসছেন।
ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ডা. জে এ জয়লাল বলেন, গোমূত্র বা গোবর কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করতে পারে এমন কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ নেই। এর পুরোটাই বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। এসবে বরং স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। প্রাণী থেকে মানবদেহে অন্যান্য রোগবালাই ছড়াতে পারে।
অন্যদিকে আহমেদাবাদের একটি গোশালার দায়িত্বরত কর্মকর্তা মধুচরণ দাস রয়টার্সকে জানান, গণজমায়েত করে গোমূত্র ও গোবর শরীরে মাখার আয়োজনের ফলে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে বিধায় তারা এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমিয়েছেন।