মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাটে পদদলিত হয়ে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন-পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার আরামকাঠি এলাকার আবদুল জব্বারের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২৭) ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পদ্মবিলা এলাকার মজিবর রহমানের স্ত্রী শিল্পী বেগম (৪০)।
মৃত শরিফুল সাভারের একটি কাঠের ফার্নিচারের দোকানে কাজ করতেন। আর শিল্পী ঢাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন। দুজনই ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সকালে নৌপুলিশ এই দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করে। পরে বেলা ১১টার দিকে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
এ ছাড়া নিহত পাঁচজনের মধ্যে ঘটনার দিন তিনজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন-শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কলিকাপ্রসাদ এলাকার মো. গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. আনচুর মাতুব্বর (১৫), মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলামীন ব্যাপারীর স্ত্রী নিপা বেগম (৪৫) ও বরিশালের মুলাদি উপজেলার চরকালিখান এলাকার এছহাক আকনের ছেলে নরুদ্দিন আকন (৪৬)।
গত ১২ মে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজার যাওয়ার পথে শাহ পরান ও এনায়েতপুরী নামে দুটি ফেরিতে থেকে নামার সময় যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়ে পদদলিত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এ সময় আহত হয় কমপক্ষে ৩০ যাত্রী। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিবচরের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শশাঙ্ক ঘোষ বলেন, একসঙ্গে অনেক ক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে থাকা ও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপাচাপির কারণেই এই দুর্ঘটনা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
শিবচরের চরজানাজাত নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আবদুল রাজ্জাক বলেন, সকালে আমরা অজ্ঞাত নারী ও পুরুষের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছে আমরা তাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। নিহত ওই দুজনই ঢাকা থেকে ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন বলেন, নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু গরম ও হিটস্ট্রোক থেকে হয়েছে। মরদের হস্তান্তর করা হয়েছে।