গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আজ এক চিকিৎসক পরিবারের ৭জনসহ প্রাণ গেছে অন্তত ৯ জনের। এ নিয়ে উপত্যকায় ৬ দিনের ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৪৯। এদিকে, আল জাজিরা ও এপির ব্যুরো অফিসে বোমা হামলাকে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়েছেন এপির প্রেসিডেন্ট। আর বিশ্ববাসীকে প্রকৃত খবর থেকে দূরে রাখতে এ হামলা, বলছে আল জাজিরা। ইসরায়েলি বর্বরতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, ইতালি, ফ্রান্স ও মেক্সিকোতে।
ফিলিস্তিনের গাজায় ১১ তলা ভবনে ১৫ বছর ধরে ব্যুরো অফিসের কার্যক্রম চলছিলো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বার্তা সংস্থা এপি ও কাতারভিত্তিক আল জাজিরা টিভির। ইসরায়েলি তাণ্ডবে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে ভবনটি।
হামলার আগমুহূর্তে সংবাদকর্মীরা তড়িঘড়ি প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারলেও, ভবনের সঙ্গেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে টেলিভিশনের যন্ত্রপাতি, গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফুটেজ।
বিধ্বস্ত জালা টাওয়ারের মালিক জাওয়াদ মাহদী বলেন, আইনজীবী, প্রকৌশলী, এপি ও আল জাজিরাসহ গণমাধ্যমের অফিস ছিলো এখানে। হামাসের কোনো দপ্তর থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন।
এপির প্রেসিডেন্ট ও সিইও গ্রে প্রুইট বলেন, যেভাবে এপি-আল জাজিরাকে টার্গেট করেছে ইসরায়েল, এটি খুবই দু:খজনক। গাজার খবর থেকে বিশ্ববাসী আড়ালে রাখতেই এ হামলা। ব্যুরো অফিস ছাড়াই গাজার খবর দিয়ে যাবে এপি।
গাজায় আল জাজিরার ব্যুরো চীফ ওয়ায়েল আল দাহদৌ বলেন, গণমাধ্যম অফিসে কীভাবে এরকম হামলা চালায় ইসরায়েল? কারা তাদের সাহস জুগিয়েছে তা জানতে চায় বিশ্ব।
গৃহহীন ১৭ হাজার ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছেন গাজার জাতিসংঘ পরিচালিত ৪১ টি স্কুলে।
সংঘাত বন্ধে ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আর সংবাদকর্মীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইসরায়েলকে আহবান জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। তবে নিজের দাবিতে অনড় ইসরায়েল।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলছেন, ভবনটি গোয়েন্দা দপ্তর হিসেবে ব্যবহার করছিলো হামাস। এদের পরাস্থ করতে গাজায় হামলা আরো জোরদার করা হবে।
এদিকে, শেখ জাররাহ প্রতিবাদি দেয়ালচিত্র আকার সময় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। পশ্চিম তীরে নাকবা দিবসে সংঘর্ষ হয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনিদের।
সীমান্তে ইসরায়েলের ছোড়া গুলিতে লেবাননে প্রাণ গেছে একজনের। ফিলিস্তিনজুড়ে ইসরায়েলি বর্বরতার বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে লন্ডনে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, ইতালি, ফ্রান্স ও মেক্সিকোতেও বিক্ষোভে নামে হাজারো মানুষ।