বৃষ্টি বিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডে ১০৩ রানে জিতে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েও ম্যাচ জিততে পারায় বোলারদের কৃতিত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। তবে কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরায় মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর ইনিংস আলাদা বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে। আর মুশফিকের আক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ব্যাট করতে না পারা।
ঐতিহাসিক এক ম্যাচ। কেনোই বা হবে না? লঙ্কান লায়নদের বিপক্ষে যে কখনো সিরিজ জেতা হয়নি বাংলাদেশের। সেই আক্ষেপ মিটলো এমন একটা সময়ে যখন টাইগাররা ছিলো ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী। সব সমালোচনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আরও একবার বিজয়ের হাসি হাসলো টিম বাংলাদেশ।
অধিনায়ক হিসেবেও সাফল্যের পাল্লা ভারী করছেন তামিম ইকবাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর আরো একটি হোম সিরিজ জয়। দ্বিতীয় ওয়ানডে জয়ে বোলারদের কৃতিত্ব দিয়েছেন তামিম, মুশফিকের সেঞ্চুরিকেও দেখছেন আলাদা নজরে। তবে দলগত পারফর্মেন্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শেষ ম্যাচে ভুলগুলো শুধরে আরও একটি হোয়াইটওয়াশের গল্প লিখতে চান তামিম ইকবাল।
ম্যাচশেষে সিরিজ জেতা অধিনায়ক বলেছেন, ‘ভাগ্যক্রমে আমরা দুটি ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করেছি। এখনও পর্যন্ত আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারিনি। আশা করি তৃতীয় ম্যাচটিতে আমরা নিখুঁত ক্রিকেট খেলতে পারবো। শুরুতেই আমরা প্রচুর উইকেট হারিয়েছি। একসময় মনে হয়েছিল, ২০০ রান করতে পারবো না। সুতরাং আমাদের শেষ ম্যাচে নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে।’
পাহাড়সম চাপে থাকা দলকে একাই টেনে তুলেছেন মুশফিকুর রহিম। যদিও সে চাপ উপভোগ করেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজ জেতাতে ভূমিকা রাখতে পেরেছেন বলে এই সেঞ্চুরিকে অন্যগুলোর চাইতে আলাদা করে দেখছেন মুশফিক। তবে শেষ করে আসতে না পারার আক্ষেপ ঠিকই পোড়াচ্ছে।
মুশফিক বলেন, ‘একশো তো একটা মাইলস্টোন। কিন্তু এটা একটা ব্যক্তিগত ব্যাপার। সব মিলিয়ে আপনার দল জিতল কি না সেটা সবচেয়ে বেশি দেখার বিষয়। একশো করলে হয়তো আমরা ম্যাচটা নাও জিততে পারতাম। আমার মূল লক্ষ্য ছিল যাতে পঞ্চাশ ওভার ব্যাট করতে পারি। যত রানই হোক, সেটা নিয়ে যেন লড়াই করতে পারি। আমি মনে করি ২৪৬ যথেষ্ট ভালো ছিল।’
লিটন, মোসাদ্দেক, আফিফদের মতো ক্রিকেটারদের সামনে সুযোগ ছিলো দলের দুঃসময়ে হাল ধরার। বিপর্যয়ের সময় দলের তরুন ক্রিকেটারদের আরো দায়িত্বশীল হবার পরামর্শ মুশফিকুর রহিমের।
মুশফিক বলেন, ‘আমার মনে হয় যে এটা তো যেকোনো দলের জন্যই বাড়তি সুবিধা। যদি একটা ৭-৮ জন ধারাবাহিক পারফরমার থাকে। তাহলে তারা পারফরম করলে যেকোনো ম্যাচ বেরিয়ে আসবে। আমি মনে করি আজকে একটা সুযোগ ছিল। লিডিং যারা প্লেয়ার, স্পেশালি তামিম সাকিব যারা সবসময় রান করে বাংলাদেশের হয়ে। তারা পারেনি। অন্য যারা খেলোয়াড় ছিল। লিটন, আফিফ, মোসাদ্দেক। ওদের জন্য সুযোগ ছিল।’
দায়িত্ব এখনও শেষ হয়ে যায়নি। আত্মতৃপ্তিতে না ভুগে জয় দিয়ে সিরিজটি শেষ করতে চায় টিম বাংলাদেশ।