রাজধানীর গুলশানে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার ‘আত্মহত্যার প্ররোচনার’ মামলার তদন্তে সন্তষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন তার বোন নুসরাত জাহান তানিয়া।
বুধবার (২৭ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে মুনিয়া ‘হত্যাকাণ্ডের’ বিচারের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নুসরাত একথা জানান। একইসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান মুনিয়াকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
গত এক মাসে মামলার তদন্তে তিনি সন্তুষ্ট কিনা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নুসরাত জানান, তিনি সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, গত ৫ তারিখ একবার পুলিশ ডেকেছিল। আমি থানায় গিয়েছিলাম। ওরা বলেছে, ময়নাতদন্তে ভিসেরা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে, সময় লাগবে।
মামলা করার পর নুসরাত বলেছিলেন যে, তিনি আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করলেও পুলিশের তদন্তেই সত্য বেরিয়ে আসবে।
গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মুনিয়াকে উদ্ধার করা হয়। জানা যায় ওই ফ্লাটেই থাকতেন মুনিয়া। ওইদিনই মুনিয়ার বোন নুসরাত কুমিল্লা থেকে এসে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলায় তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, বসুন্ধরা এমডি আনভীর ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে মুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তাকে ওই বাসায় রেখেছিলেন। কিন্তু বিয়ে না করে তিনি উল্টো ‘হুমকি’ দেওয়ায় মুনিয়া আত্মহত্যা করেন। তবে ওই ফ্ল্যাটে আনভীরের যাতায়াতের প্রমাণ পাওয়ার কথাও জানিয়েছিল পুলিশ।
মুনিয়ার ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকার কথা সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করে নুসরাত বলেন, ‘আমি কিছু কিছু কাজে ওর জিদের কাছে পরাজিত ছিলাম।’
মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পর তুমুল আলোচনার মধ্যে মুনিয়া-আনভীরের একটি ফোনালাপ সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য শারুন চৌধুরীর সঙ্গে মুনিয়ার কিছু কথোপকথনের স্ক্রিনশট।
শারুন চৌধুরীর সঙ্গে কী সম্পর্ক ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে নুসরাত বলেন, ২৬ তারিখ সকালে মুনিয়া আমাকে ফোন করে বলেছিল, আনভীর তাকে বিভিন্ন ধরনের অপবাদ দিচ্ছে, ব্লেইম দিচ্ছে। কী ব্লেইম দিচ্ছে- জানতে চাইলে মুনিয়া বলেছিল, ‘আসলে আমি সব বলব, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও, অনেক ভুল করছি, আনভীর আমাকে ধোঁকা দিচ্ছে’।
আনভীর কী ব্লেম দিচ্ছে জানতে চাইলে বলছিল, ‘আমি নাকি ওর শত্রু শারুনের সঙ্গে যুক্ত’। তখন বলেছি, হু ইজ শারুন। বলল, ‘তুমি আসো, সব বলব’। এই বলে অনেক কান্না করছে আর বলেছে ‘আমার সামনে অনেক বিপদ, তুমি এখনি আস।’
এদিন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মেহেদী বসুন্ধরা এমডি আনভীরকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘সাধারণত কোনো এজাহার হলেই পুলিশ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হয়ে অভিযোগকৃত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। এমনকি অভিযোগকারীকে না পেলে তার বাবা-মা, স্ত্রী, পরিবারের সদস্যদের এবং সন্দেহভাজন অনেককেই গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ করে।
তিনি আরও বলেন, মুনিয়া হত্যা মামলার ক্ষেত্রে প্রধান আসামি প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মনে সংশয়, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। তাহলে আমরা কি বুঝে নেব, প্রশাসন তাদের হাতে জিম্মি?
এছাড়া মামলায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আনভীরের মা, তাদের পারিবারিক ‘বন্ধু’ ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, বাড়ির মালিক, নিরাপত্তা প্রহরী, গাড়িচালকসহ সন্দেহভাজন সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান তিনি।