সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক কলেজছাত্রী বাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে।
নিখোঁজ ছাত্রীর বাবা উপজেলা মাটিকাটা গ্রাম ও বড়ছড়া শুল্ক স্টেশনের কয়লা ব্যবসায়ী। মেয়ের সন্ধান চেয়ে রোববার রাত দেড়টার দিকে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
কলেজছাত্রী নিখোঁজের ঘটনাটি জানাজানি হলে গত দুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নেটিজেনরা নানা ধরনের মন্তব্য করছেন। অনেকে মন্তব্য করেছেন— নিখোঁজ নয়; প্রেমিকের হাত ধরে (এক কলেজছাত্র) ওই কলেজছাত্রী পালিয়েছে।
কলেজছাত্রীর বাবা আবদুল কুদ্দুছ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, আমি এখন ব্যস্ত পরে কথা বলব।
এদিকে থানায় জিডির পর পরই উপজেলা মোল্লাপাড়া এলাকার একই কলেজের এক ছাত্রকে হন্য হয়ে খুঁজছে পুলিশ। ওই কলেজছাত্র ও তার বাবার মোবাইল ফোনে একাধিবার কল করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, করোনাকালে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় উপজেলা বাণিজ্যিককেন্দ্র বাদাঘাটের চালপট্টির মক্কা টাওয়ারের পেছনে থাকা নিজ বাসা থেকে রোববার রাত ৮টার পর কলেজছাত্রী সুবর্ণা আক্তার মুক্তা নিখোঁজ হন।
মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ শহরে তাহিরপুরের বিন্নাকুলি গ্রামের আহবাব মিয়ার কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, তার ভাগ্নে রায়হানকে কেন পুলিশ খোঁজ করছে। এ সময় তিনি বলেন, বাদাঘাটের কয়লা ব্যবসায়ী মাটিকাটা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুছের মেয়েকে নিয়ে রায়হান পালিয়ে গেছে বলে থানায় জিডি করা হয়েছে।
আহবাব মিয়া বলেন, জিডির পর আমার ভগ্নিপতির বাড়িতে গিয়ে পুলিশ আমার ভাগ্নে ও কুদ্দুছের মেয়ের খোঁজ করেছে, যে কারণে হয়রানির আশঙ্কায় পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
তাহিরপুর থানার ওসি মো. আবদুল লতিফ তরফদার যুগান্তরকে বলেন, জিডির বিষয়টি তদন্ত করতে থানার এক এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।