জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি তৈরির প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়কে জমে থাকা পরিচয়পত্র তৈরির কাজ অবকাঠামো ও জনবল বুঝে পাওয়ার পর ২ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। এছাড়া আবেদনের ১ মাসের মধ্যে ইস্যু করতে হবে এনআইডি। এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটি। নির্ধারিত সময়ে এসব কাজ শেষ না হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি।
এনআইডি তৈরি ও ইস্যুর যাবতীয় দায়িত্ব সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চললেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরইমধ্যে দিকনির্দেশনা পেয়ে গেছে।
বুধবার আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে বিশদ আলোচনা শেষে ব্রিফ করেন কমিটির প্রধান আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে কাজ শুরু হয়ে গেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে জমে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির কাজ শেষ করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তিনি আরও বলেন, কোনও নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য কিংবা সংশোধনের আবেদন করলে তাকে একমাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। দেয়া সম্ভব না হলে, কেন দেয়া যাবে না, সেই বিষয়টিও লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট নাগরিককে জানাতে হবে। আমরা একটি জবাবদিহি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ভোটার তালিকা তৈরি করা। জাতীয় পরিচয়পত্র করার মতো সক্ষমতাও তাদের নেই। পৃথিবীর কোনও দেশে এমন নিয়মও নেই।
বৈঠকে আলোচিত বেশ কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে অন্যতম ছিল, হেফাজতে ইসলাম প্রসঙ্গ। মোজাম্মেল হক বলেন, আলেম ওলামাদের হয়রানি করা নয় বরং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের নানা দাবি প্রসঙ্গে কমিটির মন্তব্য, তারা হয় না বুঝে দাবি করেছে অথবা কারও প্ররোচনায় করেছে, যা মেনে নেবার মত নয়।
এলএসডিসহ নতুন সব মাদক ও অনলাইন ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয় বৈঠকে। ১৫টি গ্রুপ মাদক ব্যবসা করছে, ২টি আইনের আওতায় এসেছে উল্লেখ করে, এ সম্পর্কে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের জানান, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ৪ খুনির মুক্তিযোদ্ধা খেতাব, সনদ বাতিলে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ পাবে। আর জিয়াউর রহমান ও খন্দকার মোশতাকসহ কয়েকজনের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা এবং বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় জড়িত থাকার ব্যাপারটি খতিয়ে দেখতে উপকমিটি এখনও কাজ করে যাচ্ছে।