চট্টগ্রামে মিতু হত্যার মাস্টারমাইন্ড মুসা নিখোঁজ থাকায় রহস্য উদঘাটনে অন্যান্য তথ্য উপাত্তের ওপর নির্ভর করে এগুচ্ছে পুলিশ।
সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের পরিকল্পনাতেই স্ত্রীকে হত্যা তদন্তে এখনও প্রমাণিত না হওয়ায় সাক্ষীদের ওপর নির্ভর করেই অভিযোগ প্রমাণের চেষ্টা পিবিআইয়ের। তবে এ মামলার তদন্ত শেষ কবে হবে, কখনই বা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা যাবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছুই বলতে পারছে না তদন্তকারী সংস্থা।
গায়ত্রী অমর সিং নামে ভারতীয় এক নাগরিকের সাথে পরকীয়ার জেরেই বাবুল আক্তার পরিকল্পিতভাবে সোর্সদের দিয়ে স্ত্রী মিতুকে হত্যা করান। গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার জন্য রাজিও হন। কিন্তু আদালতে গিয়ে শেষ মুহূর্তে জবানবন্দি না দিয়েই ফিরে আসেন।
চট্টগ্রাম পিবিআই পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা বলেন,’কিছুটা সহজ হতো এখন একটু সহজ কম হলো কিন্তু কঠিন হয়ে গেল তা বলা যাবে না। কারণ আমরা তো অন্যান্ন সাক্ষী দিয়ে আমরা তো হানড্রেড পারসেন্ট আইডেন্টিফাই করেছি এটা তো বাবুল আক্তারের কাজ।’
এরপরই মামলার অন্যতম আসামি মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার, বাবুলের দুই ব্যবসায়িক পার্টনারসহ চারজন সাক্ষী হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে মিতু হত্যার সাথে বাবুল জড়িত থাকার কথা জানান তারা।
মিতু হত্যা মামলার দুই আসামি ওয়াসিম ও আনোয়ার হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বলেছিলেন, টাকার বিনিময়ে মুসার নির্দেশে মিতু হত্যায় সাতজন অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় তাদের জবানবন্দিতে আসেনি বাবুলের নাম। মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার বলেন,’১৯ বা ২০ তারিখে একটা কল আসে। আমি জানতে চাইলে বলে এটা বাবুল আক্তার স্যার। তখন আমি জানতে চাই মিতু হত্যার সঙ্গে জড়িত কিনা? বলে আমি তো করতে চাইনি আমাকে দিয়ে বাবুল আক্তার স্যার করিয়েছেন। আমি করতে বাধ্য হয়েছি।’
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম পিবিআই পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা আরও বলেন,’বাবুল আক্তার যদি কোন সোর্সকে দিয়ে তার স্ত্রীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে পারে, তবে সেকি আরেকজন সোর্স দিয়ে ওই সোর্সকে কিছু করতে পারে না?’
এদিকে, মিতুর বাবা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার দাবি করলেও বলছেন, খুব সহসাই এটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। মিতুর বাবা বলেন,’দ্রুত বিচার হোক এর চাইতেও আমার চাওয়া সত্যের বিচার হোক।’
২০১৬ সালের ৫ই জুন সকালে জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা ২০২০ সালে পিবিআই’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসাবে নাম উঠে আসে মিতুর স্বামী বাবুল আক্তারের নাম।