আজ বাবা দিবস। করোনায় বাসায় অবরুদ্ধ শিশু-কিশোরদের জন্য বাবাই হয়ে উঠছেন বাতিঘর। ঘরবন্দি সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশ ও মনোজগত উজ্জীবিত রাখতে বাবা হয়ে উঠছেন বন্ধু।
করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সামাজিক অনুষ্ঠান হয়েছে সীমিত। ঘরবন্দি জীবনে বাবাই হয়ে উঠছেন সন্তানের বন্ধু। অবসরে সন্তানদের উৎসাহ দিচ্ছেন সংস্কৃতি চর্চায়।
দেবাশিষ বসাক শুভ্র বলেন, ‘বাবা-ছেলের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কটাই সবচেয়ে আগে হওয়া উচিত। ভয়, শ্রদ্ধা সবই থাকতে হবে কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যদি সৃষ্টি না হয় তাহলে আমি ওকে বুঝবোনা, ছেলেও আমাকে বুঝবেনা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বন্দি সময়ে শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশে সৃজনশীল উদ্যোগ সবচেয়ে জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান শান্তা তৌহিদা বলেন, ‘এবারের বাবা দিবসের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। করোনার কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত আমাদের শিশুরা। তাই, এই সময়ে মায়ের পাশাপাশি বাবারা হয়ে উঠতে পারেন শিশুর বড় বন্ধু।’
মহামারির এমন দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে সন্তানদের বাঁচাতে অনেক বাবাই নিচ্ছেন ভিন্নধর্মী উদ্যোগ। গান, কবিতা, চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি অনেক বাবাই সন্তানকে নিয়ে করছেন ছাদবাগান। গাছের পরিচর্যা শেখানোর মধ্য দিয়ে সন্তানকে করছেন প্রকৃতি ঘনিষ্ঠ।
গবেষক রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার মেয়ে পড়াশুনার পাশাপাশি মা-মাটি, প্রকৃতি সবকিছুর সাথেই যেন সে খাপ খাওয়াতে পারে। প্রতিদিন আমি মেয়েকে আমার ড্রাগন বাগানে নিয়ে আসি এবং সে খুব উৎসাহ নিয়ে আমার সাথে সাথে গাছের যত্ন করে।’
শিক্ষার্থী সারাস বিনতে রেজা বলেন, ‘স্কুল বন্ধ, আমার বাবা যখন সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফেরে তখন আমি বাবাকে ছাঁদ বাগানে সাহায্য করি।’
পরিবেশবিদরা বলছেন, নতুন প্রজন্ম প্রকৃতিপ্রেমী হলেই গড়ে উঠবে বাসযোগ্য পৃথিবী। পরিবেশবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অভিভাবকরা যদি বাচ্চাদের জন্য কিছুটা সময় অতিরিক্ত ব্যয় করি, তাদের নিয়ে কিছু কর্মকান্ড করি তাহলে তারা আমাদের সাথে একটা ভালো সময় পার করতে পারে এবং গঠনমূলক অনেককিছু শিখতে পারে।’